বিশ্বের অর্থনৈতিক বাজারে শুক্রবার এক ধরনের সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। আর্কটিক অঞ্চল ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন রাজনৈতিক নাটক বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র আদৌ আগের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য কি না।
এশিয়ার বাজারে লেনদেনের সময় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামান্য পদক্ষেপ নিয়ে ইয়েনের বড় পতন ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হলেও বাজারকে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা থেকে পুরোপুরি সরানো যায়নি। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, চলতি বছরেই একাধিকবার সুদের হার বাড়তে পারে এবং প্রথম পদক্ষেপ আসতে পারে বসন্তের শুরুতেই।

ডলারের ওপর চাপ ও বৈশ্বিক আস্থার প্রশ্ন
ডলার সামগ্রিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। অনেকের ধারণা, এই নাটকীয় পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণ কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিমাণ বিপুল, ফলে সেখান থেকে কিছুটা পুঁজি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ও তৈরি হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড চুক্তি ও ইউরোপের স্বস্তি
শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ন্যাটোর সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। ন্যাটোর প্রধান ও বলেছেন, আর্কটিক নিরাপত্তায় মিত্র দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এই ঘোষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, নতুন করে চাপ এলে ইউরোপও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
কানাডা প্রসঙ্গ ও দাভোসের বার্তা
ঘরোয়া রাজনীতিতেও ট্রাম্পের অবস্থান আলোচনায়। কানাডাকে শান্তি বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত তিনি প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী দাভোসে দেওয়া ভাষণে শক্তিধর দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংহতি কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ও শুল্ককে চাপের হাতিয়ার বানানোর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
এশিয়ার শেয়ারবাজার ও প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ
এশিয়ার শেয়ারবাজারে সামগ্রিকভাবে সূচক বেড়েছে, তবে প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ স্পষ্ট। একটি বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হঠাৎ বড় পতনে নেমেছে, কারণ তারা তথ্যকেন্দ্রের সার্ভার চিপের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে। এতে বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

চীনের মুদ্রানীতি ও ইয়ুয়ানের ইঙ্গিত
এদিকে চীন ডলারের বিপরীতে নিজেদের মুদ্রার সরকারি নির্দেশনাকে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে নিয়েছে, যা কয়েক বছর পর প্রথম। বাজারমূল্যের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল হলেও বিনিয়োগকারীরা এটিকে একটি নীরব অনুমোদনের সংকেত হিসেবে দেখছেন।
বাজারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দিন
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থার তথ্য আজ বাজারের দিকনির্দেশ ঠিক করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তাই নতুন তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















