ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি আবারও নতুন নিম্ন স্তরে নেমেছে। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই রুপির দর পড়ে দাঁড়ায় একানব্বই দশমিক নিরানব্বই। আগের দিনের তুলনায় রুপির এই পতন প্রায় সতেরো পয়সা। দিনের শুরুতে সাময়িকভাবে শক্ত অবস্থান নিলেও বেলা গড়াতেই চাপ বেড়েছে মুদ্রাটির ওপর।
শুরুর আশায় ভাটা পড়ল দ্রুত
আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রুপি দিনের শুরুতে একানব্বই দশমিক পঁয়তাল্লিশে খোলে এবং কিছুক্ষণ পরে একানব্বই দশমিক একচল্লিশ পর্যন্ত শক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে অবস্থান কিছুটা নরম করায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়ে। এর ফলে ডলারের চাপ সাময়িকভাবে কমে এবং উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলির মতো রুপিও কিছুটা স্বস্তি পায়। তবে এই ইতিবাচক প্রভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাড়াচ্ছে চাপ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা বিদেশি তহবিল প্রত্যাহার রুপির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারে প্রায় দুই হাজার পাঁচশো ঊনপঞ্চাশ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে স্পষ্টতার অভাবের কারণে এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।
বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে দুশ্চিন্তা
মুদ্রা ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও পরিষ্কার নয়। যতদিন না ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমছে এবং চুক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, ততদিন রুপি বহিরাগত ধাক্কায় দুর্বলই থাকবে।
আগাম পূর্বাভাসে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মুদ্রা বাজার বিশেষজ্ঞ অমিত পাবারি জানিয়েছেন, বর্তমান দরে বৈশ্বিক ঝুঁকির বড় অংশ ইতিমধ্যে রুপির দামে প্রতিফলিত হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কিছুটা সংহতি এবং আংশিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একানব্বই দশমিক দুই শূন্য অঞ্চলটি শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে রুপির দর একানব্বইয়ের নিচে নামার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ববাজারের ইঙ্গিত
অন্যদিকে প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক সামান্য বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















