থাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে, কিন্তু এ বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সবাই একসঙ্গে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গেই থাকবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য
শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোলতিহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি শোলতিহরি, এগারো মাইল, বৈরাগী, পয়সাফেলা, মুনশিরহাট ও দেবীপুর এলাকায় পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ
মির্জা ফখরুল বলেন, গত পনেরো বছরে মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নির্বাচন হওয়ার আগের রাতেই ব্যালট দেওয়া হয়েছে কিংবা ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য
তিনি বলেন, এখন একটি নতুন সুযোগ সামনে আসছে। শেখ হাসিনা ভারতে চলে গেছেন। তিনি চলে যাওয়ায় স্বস্তি মিললেও তাঁর সমর্থকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গেছেন। বিএনপি স্পষ্টভাবে বলছে, কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হবে না। যারা কোনো অন্যায় করেননি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বিএনপির অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের দাবি
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ শাসন করেনি, কিন্তু বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপিই উন্নয়ন দিতে সক্ষম। অন্য কেউ তা পারবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক, যারা সবসময় মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকেছে।

ভোটারদের প্রতি সতর্কবার্তা
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি দল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইছে। তারা কখনো সরকার গঠন করেনি, মানুষের জন্য কোনো কাজও করেনি। বিএনপি আগে দেশ শাসন করেছে এবং মানুষের জন্য কাজ করেছে।
সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অঙ্গীকার
সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে কাজ করেন এবং সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















