বিশ্ববাজারে রুপোর দামে দেখা দিল নজিরবিহীন উল্লম্ফন। নতুন বছরের শুরুতেই এক আউন্স রুপোর দাম একশ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের জল্পনামূলক আগ্রহ, খুচরা বিনিয়োগকারীদের দফায় দফায় কেনা এবং দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট মিলিয়ে এই মূল্য বৃদ্ধিকে আরও তীব্র করেছে।
রুপোর দামে হঠাৎ এই লাফ মূলত সোনার রেকর্ড দামের ছায়ায় ঘটেছে। সোনা যখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে, তখন তুলনামূলক কম দামের কারণে রুপোর প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুতগতির এই উত্থান রুপোর বাজারকে এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
![]()
খুচরা বিনিয়োগকারীদের দাপট
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ছোট আকারের রুপোর বার ও কয়েন কেনার মাধ্যমে খুচরা বিনিয়োগকারীরা বাজারে বড় প্রভাব ফেলছেন। এর পাশাপাশি প্রকৃত রুপো দ্বারা সমর্থিত বিনিয়োগ তহবিলের অর্থ প্রবাহ বেড়েছে। এই প্রবণতা গত বছরের শেষ দিক থেকে আরও জোরদার হয়েছে, যা চলতি বছরের শুরুতেও অব্যাহত।
দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর রুপোর দাম বৃদ্ধির হার ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগ চাহিদার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বড় ভূমিকা রেখেছে।
শিল্প চাহিদা ও বাস্তব বাজারের চাপ
রুপো শুধু অলংকার বা বিনিয়োগের ধাতু নয়, এটি ইলেকট্রনিক্স ও সৌরবিদ্যুৎ শিল্পেরও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সৌর প্যানেল খাতে রুপোর চাহিদা ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উচ্চ দামের কারণে শিল্প খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।
রিসাইক্লিং খাত থেকে প্রতিবছর মোট সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো রুপো পুনর্ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও পরিশোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে দ্রুত রুপো ফিরছে না। এর ফলে বাস্তব বাজারের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

সোনা ও রুপোর অনুপাতের পরিবর্তন
দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মাত্র পঞ্চাশ আউন্স রুপো দিয়ে এক আউন্স সোনা কেনা সম্ভব হচ্ছে। এই অনুপাত সাধারণত বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বোঝার একটি সূচক হিসেবে ধরা হয়। বর্তমান অবস্থায় বিশ্লেষকদের মতে, রুপোর পারফরম্যান্স সোনার তুলনায় অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে পড়েছে।
বাজারের সামনে কী চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ থাকা রুপো ধীরে ধীরে বাজারে ফিরলে তারল্য কিছুটা বাড়তে পারে। এতে সাময়িক স্বস্তি এলেও সাম্প্রতিক উন্মাদনায় অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিতে শুরু করলে দামে বড় ধরনের সংশোধন দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিনিয়োগ নির্ভর উত্থানের গতি এতটাই দ্রুত যে যেকোনো সময় বাজারে ফাটল ধরতে পারে। বাস্তব বাজারের চাপ কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত প্রত্যাশা রুপোর দামের সামনে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















