গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহের রাজনীতি নতুন নয়। কিন্তু সেই অনুসন্ধানে হঠাৎ ভারত মহাসাগরের নাম জুড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে কেন তিনি এত দূরের এই সমুদ্রাঞ্চলের প্রসঙ্গ টানলেন, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ
ট্রাম্পের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড শুধু বরফে ঢাকা দ্বীপ নয়, বরং সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূখণ্ড। আর্কটিক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনার ভাবনা তিনি প্রকাশ করেছিলেন আগেই। প্রাকৃতিক সম্পদ, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যপথ এবং নিরাপত্তা স্বার্থ এই আগ্রহের মূল চালিকাশক্তি।

ভারত মহাসাগরের প্রসঙ্গ এল কেন
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ভারত মহাসাগরের নাম টানেন বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বোঝাতে। তার বক্তব্যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ ও ভূ রাজনৈতিক এলাকাগুলো একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ভারত মহাসাগর যেমন এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সংযোগস্থল, তেমনি আর্কটিক ভবিষ্যতের নতুন বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
চীন ও রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ইঙ্গিত ছিল চীন ও রাশিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাবের দিকে। ভারত মহাসাগরে যেমন চীনের উপস্থিতি বাড়ছে, তেমনি আর্কটিক এলাকায় তারা সক্রিয় হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মানচিত্রে আনার মাধ্যমে তিনি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতা
ট্রাম্পের এই তুলনা অনেকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে ভবিষ্যৎ শক্তির লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ডের মতো অঞ্চলকে আর শুধু ভৌগোলিক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিত
ভারত মহাসাগরের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প মূলত বোঝাতে চেয়েছিলেন যে বিশ্ব রাজনীতিতে অঞ্চলভিত্তিক আলাদা চিন্তার সময় শেষ। সমুদ্র, সম্পদ ও সামরিক উপস্থিতি একসূত্রে গাঁথা। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















