থাইল্যান্ডের গাড়ি বাজারে চীনা নির্মাতাদের আগ্রাসী উপস্থিতির মুখে দেশটিতে উৎপাদন কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে জাপানের সুজুকি মোটর। পূর্বাঞ্চলীয় রায়ং প্রদেশে অবস্থিত তাদের অ্যাসেম্বলি কারখানাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড মোটরের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারখানা হস্তান্তরের বিষয়ে দুই কোম্পানির মধ্যে ইতোমধ্যেই চুক্তি সই হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই জমি ও অন্যান্য সম্পদ ফোর্ডের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।
কারখানার ইতিহাস ও উৎপাদন সংকট
দুই হাজার বারো সালে প্রায় বিশ বিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগে রায়ংয়ে এই কারখানা স্থাপন করে সুজুকি। বছরে সর্বোচ্চ আশি হাজার গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। একসময় যেখানে প্রায় ষাট হাজার গাড়ি তৈরি হতো, সেখানে দুই হাজার চব্বিশ সালে উৎপাদন নেমে আসে মাত্র চার হাজার চারশ ইউনিটে। সুইফটসহ একাধিক ছোট গাড়ির মডেল এখানে উৎপাদিত হতো। উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ নাগাদ কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সুজুকি।
ফোর্ডের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
ফোর্ড ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে রেঞ্জার পিকআপ ও এভারেস্ট এসইউভি উৎপাদন করছে। এই কারখানাগুলো থেকে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গাড়ি রপ্তানি করা হয়। সুজুকির কারখানাটি ফোর্ডের বর্তমান কারখানার পাশেই অবস্থিত এবং প্রায় ছেষট্টি হেক্টর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই স্থাপনাটি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ফোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি থাইল্যান্ডকে উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
সুজুকির বিক্রির কারণ
সুজুকির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রত্যাশিত হারে ছোট গাড়ির বাজার সম্প্রসারিত না হওয়া, শক্তিশালী মুদ্রা বিনিময় হার এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপের কারণে কারখানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে সুজুকির বিক্রি কমেছে চৌদ্দ শতাংশ। বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে এক শতাংশেরও নিচে।

চীনা নির্মাতাদের উত্থান
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র থাইল্যান্ডে এক সময় জাপানি নির্মাতাদের বাজার দখল ছিল প্রায় নব্বই শতাংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা কোম্পানিগুলো দ্রুত বাজার দখল করছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্থানে দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ দিকে জাপানি নির্মাতাদের বাজার অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে ঊনসত্তর শতাংশে। একই সময়ে চীনা নির্মাতারা একুশ শতাংশ বাজার দখল করেছে, যা দুই হাজার বাইশ সালের তুলনায় চার গুণ বেশি।
জাপানি কোম্পানিগুলোর সংকোচন
সুজুকির পাশাপাশি অন্যান্য জাপানি নির্মাতারাও থাইল্যান্ডে কার্যক্রম কমাচ্ছে। হোন্ডা দুটি কারখানা একীভূত করেছে, নিসান একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ করেছে এবং মিতসুবিশি দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে একটি কারখানা স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রবণতা থাইল্যান্ডের গাড়ি শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















