০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা শেখ হাসিনার সঙ্গে তিশার ছবি জাদুঘরে রাখার প্রস্তাব, শাওনের কটাক্ষে তোলপাড় শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি বাড়ল, সূচকের উত্থানে ফিরল বিনিয়োগকারীদের আস্থা আইসিসির প্রত্যাখ্যান, বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ ১,৩০০ কোটি টাকার জিকে সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পে নতুন প্রাণ পাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমের কৃষি আফ্রিকার খাদ্যবাজারের অদৃশ্য শক্তি: মহাদেশের ভেতরের বাণিজ্য যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বড় গাজায় শান্তিতে বিরক্ত ট্রাম্প, বোর্ডের রাজনীতি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ইরানের রক্তাক্ত দমন-পীড়নের পর ক্ষমতার ভেতরে ফাটল, বাড়ছে শাসনব্যবস্থার অস্থিরতা ফরিদপুরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ বুড়ো কৃষকের ভারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি: উন্নয়নের সামনে নতুন সতর্কবার্তা

প্রেমিককের দেহ পাঁচ টুকরো করলেন সুফিয়া

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরে সৃষ্ট মনোমালিন্য থেকে প্রেমিক মোহাম্মদ আনিছকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়

পুলিশ জানায়, নিহত মোহাম্মদ আনিছের বয়স আটত্রিশ বছর। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে গ্রেপ্তার সুফিয়া আক্তারের বয়স ঊনচল্লিশ বছর। তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রেমিকের লাশ ৬ টুকরা করে খালে ফেলেন প্রেমিকা

কাটা হাত উদ্ধারের ঘটনা

গত মঙ্গলবার বিশ জানুয়ারি গভীর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিচয় শনাক্তে তদন্ত

হাত উদ্ধারের পরপরই অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় ও বাকি অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, বিশ জানুয়ারি থেকেই মোহাম্মদ আনিছ নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশে নারী পুরুষ সমানতালে এগিয়ে

গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি

পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বাইশ জানুয়ারি রাত চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত আনিছ ও সুফিয়ার মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ থেকেই সুফিয়া তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু।

ঘরের দরজা ভেঙে অর্ধগ‌লিত লাশ উদ্ধার করল পুলিশ

আলামত গোপনের চেষ্টা

হত্যার পর মরদেহ পাঁচ টুকরো করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মরদেহের বিভিন্ন খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা

প্রেমিককের দেহ পাঁচ টুকরো করলেন সুফিয়া

০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরে সৃষ্ট মনোমালিন্য থেকে প্রেমিক মোহাম্মদ আনিছকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়

পুলিশ জানায়, নিহত মোহাম্মদ আনিছের বয়স আটত্রিশ বছর। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে গ্রেপ্তার সুফিয়া আক্তারের বয়স ঊনচল্লিশ বছর। তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রেমিকের লাশ ৬ টুকরা করে খালে ফেলেন প্রেমিকা

কাটা হাত উদ্ধারের ঘটনা

গত মঙ্গলবার বিশ জানুয়ারি গভীর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিচয় শনাক্তে তদন্ত

হাত উদ্ধারের পরপরই অজ্ঞাতনামা মরদেহের পরিচয় ও বাকি অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, বিশ জানুয়ারি থেকেই মোহাম্মদ আনিছ নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশে নারী পুরুষ সমানতালে এগিয়ে

গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি

পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বাইশ জানুয়ারি রাত চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত আনিছ ও সুফিয়ার মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধ থেকেই সুফিয়া তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু।

ঘরের দরজা ভেঙে অর্ধগ‌লিত লাশ উদ্ধার করল পুলিশ

আলামত গোপনের চেষ্টা

হত্যার পর মরদেহ পাঁচ টুকরো করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মরদেহের বিভিন্ন খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।