০৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে নীরব বিপ্লব: ঘরোয়া অ্যাপে প্রেমের নতুন ভাষা ডেনমার্কে চিঠির শেষ যাত্রা: ৪০১ বছরের ঐতিহ্যে ইতি এক দশকের ছিনতাই ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই বিরল রোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওষুধ: ব্রিটেনের সাহসী সিদ্ধান্তে খুলছে নতুন চিকিৎসার দিগন্ত জাপানে আগাম ভোটের বড় বাজি, তাকাইচির ক্ষমতা পরীক্ষার দিনক্ষণ সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন

ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে নীরব বিপ্লব: ঘরোয়া অ্যাপে প্রেমের নতুন ভাষা

ভারতে অনলাইন ডেটিং মানেই যে শুধু অস্বস্তি আর সংস্কৃতিগত দ্বন্দ্ব, সেই ধারণা ভাঙতে শুরু করেছে দেশীয় ডেটিং অ্যাপগুলো। প্রথম ডেটে সঙ্গীর সঙ্গে তার মায়ের উপস্থিতি—শুনতে অবাক লাগলেও ভারতের বাস্তবতায় এমন অভিজ্ঞতা বিরল নয়। এই বাস্তবতাকেই মাথায় রেখে ভারতীয় উদ্যোক্তারা তৈরি করছেন এমন অ্যাপ, যেখানে প্রেম খোঁজার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমান গুরুত্ব পায়।

ভারতের ডেটিং বাজার কেন আলাদা
ভারতের জনসংখ্যা প্রায় একশ চল্লিশ কোটি। মধ্যম বয়স মাত্র তিরিশ। মোবাইল ইন্টারনেট সহজলভ্য ও সস্তা। কাগজে-কলমে এই বাজার ডেটিং ব্যবসার জন্য স্বর্গসম। এক দশক আগে পশ্চিমা ডেটিং অ্যাপ গুলো বড় আশা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ব্যবহারকারী জুটলেও লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। গত দেড় বছরে বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি অ্যাপ ধীরে ধীরে ভারত থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুই সংস্কৃতির টানাপোড়েন
ভারতের তরুণ সমাজ এখনো দুই ভুবনের মাঝে দাঁড়িয়ে। একদিকে পারিবারিকভাবে ঠিক করা বিয়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য, যেখানে অনেকেই বিয়ের আগে সঙ্গীকে খুব কমই চেনেন। অন্যদিকে নিজের ভালোবাসা নিজে বেছে নেওয়ার নতুন আকাঙ্ক্ষা। অনলাইন প্রেমের খোঁজ অনেক সময়ই হয় পরিবারের নজরদারিতে। ফলে পশ্চিমা অ্যাপের খোলামেলা ডেটিং ধারণা বহু তরুণের কাছে অস্বস্তিকর।

Love in the Digital Age: True Love Stories Showing Us How Homegrown Dating  Apps Are Transforming Romance

দেশীয় অ্যাপের সাংস্কৃতিক কৌশল
ভারতীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, পশ্চিমা অ্যাপগুলোকে অনেকেই নৈমিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে দেখেন, যা সমাজের বড় অংশে এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তাই দেশীয় অ্যাপগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে ‘ডেট করে বিয়ে’ ধারণায়। ফ্লাটার নামের একটি অ্যাপ মূলত দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরের তরুণদের লক্ষ্য করছে। এরা বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করতে চান না, আবার পশ্চিমা অ্যাপের সংস্কৃতিতেও স্বচ্ছন্দ নন। সাতটি ভাষায় অ্যাপ চালু রেখে এই ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রেমের কবিতা লেখা, অশালীন কথাবার্তা ঠেকাতে ভাষা নিয়ন্ত্রণ—সবই আছে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য।

নিরাপত্তা আর পরিচয়ের নিশ্চয়তা
আরেকটি অ্যাপ জুলিও দাবি করছে, তারা সরকারি ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার সাহায্যে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করে। উদ্দেশ্য একটাই—ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা ঠেকানো এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ানো। ভারতীয় সমাজে যেখানে নিরাপত্তা ও বিশ্বাস বড় বিষয়, সেখানে এই কৌশল বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

লাভের প্রশ্ন এখনো খোলা
তবে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই দেশীয় অ্যাপগুলো কি সত্যিই বড় মুনাফা করতে পারবে। দীর্ঘদিনের পুরোনো পাত্র পাত্রী খোঁজার প্লাটফর্ম গুলো ভারতে বিশাল লাভ করতে পারেনি। সম্পর্ক পরামর্শক সিমরান মঙ্গারামের কথায়, ভারতে মানুষ বিনামূল্যে সেবা পেলে কষ্ট সহ্য করতেই রাজি। একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছালেই কেবল তারা অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি

ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে নীরব বিপ্লব: ঘরোয়া অ্যাপে প্রেমের নতুন ভাষা

০৫:০০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতে অনলাইন ডেটিং মানেই যে শুধু অস্বস্তি আর সংস্কৃতিগত দ্বন্দ্ব, সেই ধারণা ভাঙতে শুরু করেছে দেশীয় ডেটিং অ্যাপগুলো। প্রথম ডেটে সঙ্গীর সঙ্গে তার মায়ের উপস্থিতি—শুনতে অবাক লাগলেও ভারতের বাস্তবতায় এমন অভিজ্ঞতা বিরল নয়। এই বাস্তবতাকেই মাথায় রেখে ভারতীয় উদ্যোক্তারা তৈরি করছেন এমন অ্যাপ, যেখানে প্রেম খোঁজার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমান গুরুত্ব পায়।

ভারতের ডেটিং বাজার কেন আলাদা
ভারতের জনসংখ্যা প্রায় একশ চল্লিশ কোটি। মধ্যম বয়স মাত্র তিরিশ। মোবাইল ইন্টারনেট সহজলভ্য ও সস্তা। কাগজে-কলমে এই বাজার ডেটিং ব্যবসার জন্য স্বর্গসম। এক দশক আগে পশ্চিমা ডেটিং অ্যাপ গুলো বড় আশা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ব্যবহারকারী জুটলেও লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। গত দেড় বছরে বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি অ্যাপ ধীরে ধীরে ভারত থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুই সংস্কৃতির টানাপোড়েন
ভারতের তরুণ সমাজ এখনো দুই ভুবনের মাঝে দাঁড়িয়ে। একদিকে পারিবারিকভাবে ঠিক করা বিয়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য, যেখানে অনেকেই বিয়ের আগে সঙ্গীকে খুব কমই চেনেন। অন্যদিকে নিজের ভালোবাসা নিজে বেছে নেওয়ার নতুন আকাঙ্ক্ষা। অনলাইন প্রেমের খোঁজ অনেক সময়ই হয় পরিবারের নজরদারিতে। ফলে পশ্চিমা অ্যাপের খোলামেলা ডেটিং ধারণা বহু তরুণের কাছে অস্বস্তিকর।

Love in the Digital Age: True Love Stories Showing Us How Homegrown Dating  Apps Are Transforming Romance

দেশীয় অ্যাপের সাংস্কৃতিক কৌশল
ভারতীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, পশ্চিমা অ্যাপগুলোকে অনেকেই নৈমিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে দেখেন, যা সমাজের বড় অংশে এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তাই দেশীয় অ্যাপগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে ‘ডেট করে বিয়ে’ ধারণায়। ফ্লাটার নামের একটি অ্যাপ মূলত দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরের তরুণদের লক্ষ্য করছে। এরা বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করতে চান না, আবার পশ্চিমা অ্যাপের সংস্কৃতিতেও স্বচ্ছন্দ নন। সাতটি ভাষায় অ্যাপ চালু রেখে এই ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রেমের কবিতা লেখা, অশালীন কথাবার্তা ঠেকাতে ভাষা নিয়ন্ত্রণ—সবই আছে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য।

নিরাপত্তা আর পরিচয়ের নিশ্চয়তা
আরেকটি অ্যাপ জুলিও দাবি করছে, তারা সরকারি ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার সাহায্যে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করে। উদ্দেশ্য একটাই—ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা ঠেকানো এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ানো। ভারতীয় সমাজে যেখানে নিরাপত্তা ও বিশ্বাস বড় বিষয়, সেখানে এই কৌশল বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

লাভের প্রশ্ন এখনো খোলা
তবে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই দেশীয় অ্যাপগুলো কি সত্যিই বড় মুনাফা করতে পারবে। দীর্ঘদিনের পুরোনো পাত্র পাত্রী খোঁজার প্লাটফর্ম গুলো ভারতে বিশাল লাভ করতে পারেনি। সম্পর্ক পরামর্শক সিমরান মঙ্গারামের কথায়, ভারতে মানুষ বিনামূল্যে সেবা পেলে কষ্ট সহ্য করতেই রাজি। একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছালেই কেবল তারা অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত হয়।