০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে নীরব বিপ্লব: ঘরোয়া অ্যাপে প্রেমের নতুন ভাষা ডেনমার্কে চিঠির শেষ যাত্রা: ৪০১ বছরের ঐতিহ্যে ইতি এক দশকের ছিনতাই ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই বিরল রোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওষুধ: ব্রিটেনের সাহসী সিদ্ধান্তে খুলছে নতুন চিকিৎসার দিগন্ত জাপানে আগাম ভোটের বড় বাজি, তাকাইচির ক্ষমতা পরীক্ষার দিনক্ষণ সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন

অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি

ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে অনেকেই চমকে ওঠেন, বিশেষ করে যখন সেখানে স্বাভাবিকের বাইরে বা অস্বাভাবিক শব্দটি লেখা থাকে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার আগেই এমন ফল দেখলে দুশ্চিন্তা বাড়ে। আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন পরীক্ষার ফল সরাসরি রোগীর অনলাইন পোর্টালে চলে আসে, অনেক সময় চিকিৎসক দেখার আগেই। ফলে রোগী নিজেই প্রথম উদ্বেগের মুখোমুখি হন।

স্বাভাবিক সীমার মানে কী
অনেকের ধারণা, নির্ধারিত সীমার বাইরে মানেই বড় কোনো সমস্যা। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। পরীক্ষার স্বাভাবিক সীমা নির্ধারিত হয় সুস্থ মানুষের একটি বড় অংশের ফলাফলের ভিত্তিতে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সুস্থ মানুষের ফল সেই সীমার বাইরে থাকতে পারে। তাই একটি সংখ্যাই যে রোগের প্রমাণ, তা নয়।

চিকিৎসকেরা সাধারণত একটি মান দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁরা সময়ের সঙ্গে ফলের পরিবর্তন, একাধিক পরীক্ষার মিল এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার দিকে নজর দেন। আগের রিপোর্টের তুলনায় বর্তমান মান কতটা বদলেছে, সেটিও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একটি রিপোর্ট নয়, পুরো চিত্রটাই আসল
রক্তের সাধারণ পরীক্ষায় যেমন লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা দেখা হয়, আবার অন্য পরীক্ষায় কিডনি, লবণ বা রক্তে শর্করার তথ্য পাওয়া যায়। এসব মান একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়। কখনো কখনো মান স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই থাকে, কিন্তু আগের তুলনায় কমে গেলে সেটিও চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কেন বদলে যেতে পারে পরীক্ষার ফল
ল্যাব পরীক্ষার ফল নানা কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। পরীক্ষার আগে নির্দেশনা ঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও বড় বিষয়। অনেক পরীক্ষায় উপবাস থাকা জরুরি। উপবাস না থাকলে রক্তে শর্করার মতো মান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাতে পারে।

শরীরে পানির পরিমাণও প্রভাব ফেলে। শরীর পানিশূন্য হলে রক্ত ঘন হয়ে কিছু মান বেশি আসতে পারে, আবার বেশি পানি পান করলে কিছু লবণ কম দেখাতে পারে। এগুলো সাময়িক পরিবর্তন, যা পরে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

কখনো কখনো রক্ত নেওয়ার সময়ও সমস্যা হতে পারে। রক্তকণিকা ভেঙে গেলে কিছু উপাদান কৃত্রিমভাবে বেড়ে যায়। এমন ক্ষেত্রে রিপোর্ট পুরোপুরি শরীরের প্রকৃত অবস্থাকে তুলে ধরে না এবং পরীক্ষা আবার করার প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করবেন যেভাবে
রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করবেন নাকি অপেক্ষা করবেন। সাধারণভাবে চিকিৎসক যদি জানান যে তিনি ফল জানাবেন, তাহলে কয়েক দিন অপেক্ষা করা যায়। তবে সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়লে নিজে থেকেই বার্তা পাঠানো দোষের নয়।

অনেকে উদ্বেগের ভয়ে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করেন না। কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা ব্যাখ্যা মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকের পাঠানো ছোট একটি ব্যাখ্যাই অনেক সময় বড় আতঙ্ক দূর করে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি

অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি

০৬:০০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে অনেকেই চমকে ওঠেন, বিশেষ করে যখন সেখানে স্বাভাবিকের বাইরে বা অস্বাভাবিক শব্দটি লেখা থাকে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার আগেই এমন ফল দেখলে দুশ্চিন্তা বাড়ে। আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন পরীক্ষার ফল সরাসরি রোগীর অনলাইন পোর্টালে চলে আসে, অনেক সময় চিকিৎসক দেখার আগেই। ফলে রোগী নিজেই প্রথম উদ্বেগের মুখোমুখি হন।

স্বাভাবিক সীমার মানে কী
অনেকের ধারণা, নির্ধারিত সীমার বাইরে মানেই বড় কোনো সমস্যা। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। পরীক্ষার স্বাভাবিক সীমা নির্ধারিত হয় সুস্থ মানুষের একটি বড় অংশের ফলাফলের ভিত্তিতে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সুস্থ মানুষের ফল সেই সীমার বাইরে থাকতে পারে। তাই একটি সংখ্যাই যে রোগের প্রমাণ, তা নয়।

চিকিৎসকেরা সাধারণত একটি মান দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁরা সময়ের সঙ্গে ফলের পরিবর্তন, একাধিক পরীক্ষার মিল এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার দিকে নজর দেন। আগের রিপোর্টের তুলনায় বর্তমান মান কতটা বদলেছে, সেটিও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একটি রিপোর্ট নয়, পুরো চিত্রটাই আসল
রক্তের সাধারণ পরীক্ষায় যেমন লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা দেখা হয়, আবার অন্য পরীক্ষায় কিডনি, লবণ বা রক্তে শর্করার তথ্য পাওয়া যায়। এসব মান একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়। কখনো কখনো মান স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই থাকে, কিন্তু আগের তুলনায় কমে গেলে সেটিও চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কেন বদলে যেতে পারে পরীক্ষার ফল
ল্যাব পরীক্ষার ফল নানা কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। পরীক্ষার আগে নির্দেশনা ঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও বড় বিষয়। অনেক পরীক্ষায় উপবাস থাকা জরুরি। উপবাস না থাকলে রক্তে শর্করার মতো মান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাতে পারে।

শরীরে পানির পরিমাণও প্রভাব ফেলে। শরীর পানিশূন্য হলে রক্ত ঘন হয়ে কিছু মান বেশি আসতে পারে, আবার বেশি পানি পান করলে কিছু লবণ কম দেখাতে পারে। এগুলো সাময়িক পরিবর্তন, যা পরে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

কখনো কখনো রক্ত নেওয়ার সময়ও সমস্যা হতে পারে। রক্তকণিকা ভেঙে গেলে কিছু উপাদান কৃত্রিমভাবে বেড়ে যায়। এমন ক্ষেত্রে রিপোর্ট পুরোপুরি শরীরের প্রকৃত অবস্থাকে তুলে ধরে না এবং পরীক্ষা আবার করার প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করবেন যেভাবে
রিপোর্টে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করবেন নাকি অপেক্ষা করবেন। সাধারণভাবে চিকিৎসক যদি জানান যে তিনি ফল জানাবেন, তাহলে কয়েক দিন অপেক্ষা করা যায়। তবে সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়লে নিজে থেকেই বার্তা পাঠানো দোষের নয়।

অনেকে উদ্বেগের ভয়ে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করেন না। কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা ব্যাখ্যা মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকের পাঠানো ছোট একটি ব্যাখ্যাই অনেক সময় বড় আতঙ্ক দূর করে দিতে পারে।