মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্যের ধরণ বদলে দিচ্ছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে ইসরায়েল অস্ত্র আমদানি ও রপ্তানি—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বাণিজ্যের নতুন চিত্র
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহের প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই সময়ে ইসরায়েল তাদের অস্ত্র আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি ঘটিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের অস্ত্র স্থানান্তরের মোট ২৬ শতাংশই গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে। এর ফলে অঞ্চলটি ইউরোপ, এশিয়া ও ওশেনিয়ার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্রগ্রহীতা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের অস্ত্র আমদানি বৃদ্ধি
সিপরির তথ্য বলছে, ২০১৬-২০২০ সময়কালের তুলনায় ইসরায়েলের অস্ত্র আমদানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে দেশটিতে সরবরাহ করা প্রধান সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে নির্দেশিত বোমা, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান এবং যুদ্ধবিমান।
বিশেষ করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত করেছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রধান সরবরাহকারী
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানির অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর অস্ত্র সরবরাহকারী দেশের তালিকায় রয়েছে ইতালি, ফ্রান্স এবং জার্মানি।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















