উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল। শুক্রবার গভীর রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত পঁচিশজন। পুলিশের বরাতে শনিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নাচ-গানের মাঝেই বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডেরা ইসমাইল খানের নূর আলম মেহসুদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ঢোলের তালে অতিথিরা যখন নাচে মেতে উঠেছিলেন, ঠিক সেই সময় এক ব্যক্তি বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রবল বিস্ফোরণে ঘরের ছাদ ধসে পড়ে এবং মুহূর্তে উৎসবস্থল পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
হাসপাতালে বাড়ল মৃতের সংখ্যা
স্থানীয় পুলিশ প্রধান আদনান খান জানান, ঘটনার পর প্রথমে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর গুরুতর আহত আরও চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহিদুল্লাহ মেহসুদ, আইনজীবী আবদুল মজিদ লাঘারি এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন।
আত্মঘাতী হামলার প্রমাণ মিলেছে
ডেরা ইসমাইল খান জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ আহমেদ সাহিবজাদা জানান, ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে, যা আত্মঘাতী হামলার প্রমাণ। বিস্ফোরণটি ঘরের ভেতরেই ঘটানো হয়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
উদ্ধার তৎপরতা ও তদন্ত শুরু
খাইবার পাখতুনখাওয়া রেসকিউ সংস্থার মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়জি জানান, খবর পাওয়ার পরই একাধিক অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
এখনও কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে একাধিক হামলার জন্য পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের দিকে সন্দেহের তীর ঘুরছে। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















