ফিলিস্তিনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজে চার দশকের বেশি সময় ধরে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে জায়েদ মানব ভ্রাতৃত্ব পুরস্কার পাচ্ছে ফিলিস্তিনি বেসরকারি সংগঠন তাওউন। আবুধাবিতে আয়োজিত সপ্তম আসরের পুরস্কার অনুষ্ঠানে আগামী চার ফেব্রুয়ারি এই সংগঠনকে সম্মান জানানো হবে। একই অনুষ্ঠানে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি এবং আফগান কন্যাশিক্ষা আন্দোলনের মুখ জারকা ইয়াতালিকেও সম্মানিত করা হবে।
মানবিক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
জায়েদ মানব ভ্রাতৃত্ব পুরস্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছর ফিলিস্তিনজুড়ে দশ লাখের বেশি মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব রাখার জন্য তাওউনকে এবারের সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যুদ্ধ, দখল ও মানবিক সংকটের মধ্যেও মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজের সহনশীলতা গড়ে তোলায় সংগঠনটির ভূমিকা এই স্বীকৃতির মূল ভিত্তি।

চার দশকের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম
উনিশশো তিরাশি সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাওউন এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে শিক্ষা, যুব ক্ষমতায়ন, এতিম শিশুদের যত্ন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক নগর পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্য, কৃষি ও জরুরি মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে। এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনি সমাজকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করেছে।
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
তাওউনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ডা নাবিল কাদ্দুমি বলেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংগঠনের জন্য নতুন নৈতিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। তার মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে এই সম্মাননার মাধ্যমে।

পুরস্কার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জায়েদ মানব ভ্রাতৃত্ব পুরস্কারের মহাসচিব জাজি মোহাম্মদ আবদেলসালাম জানান, জটিল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাওউনের দীর্ঘদিনের মানবিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নির্বাচন। তিনি বলেন, তাওউন তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষা ও সামাজিক সংহতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি পথপ্রদর্শক মডেল তৈরি করেছে।
আগের সম্মাননাপ্রাপ্তদের প্রেক্ষাপট
এর আগে এবারের আসরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার শান্তিচুক্তিকে যৌথভাবে সম্মানিত করা হয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই স্বীকৃতিকে ককেশাস অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আফগান কন্যাশিক্ষার পক্ষে কাজ করা জারকা ইয়াতালি জানান, এই সম্মান বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য নতুন আশার বার্তা বহন করছে।

বিশ্বজুড়ে মানব ভ্রাতৃত্বের বার্তা
দুই হাজার উনিশ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশটি দেশের বিশজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই পুরস্কার পেয়েছে। মানবিক সংহতি, ন্যায্যতা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় অবদানের জন্য এই বৈশ্বিক পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আদর্শকে বহন করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















