প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াল বিজেপি ও কংগ্রেস। আসামের ঐতিহ্যবাহী গামোছা না পরার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। পাল্টা জবাবে বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে কংগ্রেস।
গামোছা নিয়ে বিজেপির অভিযোগ
বিজেপির দাবি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত সংবর্ধনায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে একমাত্র রাহুল গান্ধীই আসামি গামোছা পরেননি। দলটির অভিযোগ, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি অসম্মান। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, সময় বদলালেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মানসিকতা বদলায়নি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি অতিথিরা সবাই গামোছা পরলেও রাহুল গান্ধী তা পরেননি, যা গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য অপমানজনক। এ জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রদের কণ্ঠও ছিল একই সুরে। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে এমন আচরণ শালীনতার পরিপন্থী এবং এটি কংগ্রেসের উত্তর-পূর্ব বিরোধী মনোভাবকেই তুলে ধরে।
কংগ্রেসের পাল্টা জবাব
বিজেপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ওই অনুষ্ঠানে গামোছা পরেননি—তাহলে তাঁর কাছ থেকেও কি ক্ষমা চাওয়া হবে। কংগ্রেসের বক্তব্য, সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই বিজেপির উদ্দেশ্য।
কংগ্রেস নেতারা আরও বলেন, আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে গামোছার মতো বিষয় সামনে আনা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের ভিতরে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ আড়াল করতেই এই ধরনের বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে।
![]()
প্রোটোকল বিতর্কে নতুন মাত্রা
এই ঘটনার মধ্যেই কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে পেছনের সারিতে বসানো হয়েছে, যা প্রোটোকল লঙ্ঘনের শামিল। দলের নেতারা একে বিরোধীদলের প্রতি অসম্মান বলে উল্লেখ করেন।
এ অভিযোগও নাকচ করে বিজেপি। দলটির দাবি, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে আসনবিন্যাস নিয়ে রাজনীতি করা দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপির বক্তব্য, রাহুল গান্ধী জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















