অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজার শাসন ব্যবস্থা বদলের পথে থাকলেও নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে হামাসের এক দাবিকে ঘিরে। গাজায় ভবিষ্যৎ প্রশাসনে নিজেদের পুলিশ বাহিনী ও বেসামরিক কর্মীদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে চাইছে ফিলিস্তিনি এই সংগঠন। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যানের অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। ফলে নিরস্ত্রীকরণ ও শাসন হস্তান্তর প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
নতুন প্রশাসনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হামাসের অবস্থান
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামাস চায় তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রায় দশ হাজার পুলিশ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গঠিত নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাঠামোর ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতে। একই সঙ্গে গাজায় কর্মরত প্রায় চল্লিশ হাজার বেসামরিক কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি রক্ষার আশ্বাস ও দিচ্ছে সংগঠনটি। হামাসের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করা এই জনবলকে বাদ দিলে প্রশাসনিক শূন্যতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

যুদ্ধবিরতির শর্ত ও গাজার শাসন হস্তান্তর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজার শাসন একটি প্রযুক্তিবিদ নির্ভর জাতীয় প্রশাসনিক কমিটির হাতে দেওয়ার কথা রয়েছে। এই কাঠামোতে হামাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হামাসের অস্ত্র সমর্পণের সঙ্গে যুক্ত। তবে হামাসের দাবি, এখনো তাদের সামনে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো স্পষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়নি।
ইসরায়েলের কড়া আপত্তি ও অচলাবস্থা
ইসরায়েল বরাবরই জানিয়ে আসছে, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনে হামাস-সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তি বা বাহিনীর ভূমিকা তারা মেনে নেবে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংসদে বলেছেন, পরবর্তী ধাপ পুনর্গঠন নয়, বরং গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ ও হামাসকে অস্ত্রহীন করাই মূল লক্ষ্য। এই অবস্থান হামাসের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারী অস্ত্র দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা হোক এবং ব্যক্তিগত অস্ত্র নিবন্ধনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হোক। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাস কিছু অস্ত্র নিরপেক্ষ করার সম্ভাবনার কথা বললেও শর্ত জুড়ে দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করার। তাদের বিশ্বাস, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হলে অস্ত্র ও যোদ্ধারা স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ভেতরের চাপ ও আঞ্চলিক ভূমিকা
গাজায় হামাসের পাশাপাশি আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যারা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, অস্ত্র ছেড়ে দিলে তারা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্কসহ বিভিন্ন পক্ষকে যুক্ত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে হামাসের সঙ্গে নতুন প্রশাসনের প্রধানের সরাসরি বৈঠক এখনো না হওয়ায় আলোচনা এগোচ্ছে ধীর গতিতে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















