২০২৬ সালের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতা প্রদর্শনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশল একের পর এক বাস্তবতার দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত দুইবার তাকে নিজের অবস্থান নরম করতে হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনরোষ একসঙ্গে জোট বাঁধলে নির্বাহী ক্ষমতার সীমাহীন বিস্তার ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

মিনেসোটায় রক্তপাত ও হোয়াইট হাউসের পিছু হটা
মিনেসোটায় বিক্ষোভ চলাকালে ফেডারেল এজেন্ট এর গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই ক্ষোভই হোয়াইট হাউসকে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের ভাষা ও ভঙ্গি নরম করতে বাধ্য করে। প্রশাসনের তরফে রাজ্যের গভর্নর ও মিনিয়াপোলিস এর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয় এবং সংঘাত কমানোর বার্তা দেওয়া হয়। যদিও নীতিগতভাবে বহিষ্কার কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একই সঙ্গে বোঝা যায়, মিনেসোটা কে ঘিরে যে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, সেখানে জনমত ও আইনি চ্যালেঞ্জ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতে একাধিক শুনানি শুরু হওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

বিদেশনীতি ও শক্তি প্রদর্শনের ব্যর্থতা
দেশের ভেতরের এই পিছু হটার কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প আরেকটি বড় ধাক্কা খান। ইউরোপের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে ভেস্তে যায়। ন্যাটো মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই উদ্যোগ থামাতে ভূমিকা রাখে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মিত্র দেশগুলোর আস্থায়ও ফাটল ধরেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এদিকে ভেনেজুয়েলাকে কার্যত ওভাল অফিস থেকে পরিচালনার ট্রাম্পের বক্তব্য ও কড়া প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে। দেশটির নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব তারা মেনে নেবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ও সংশয় তৈরি হয়েছে, আদৌ এই পরিকল্পনা বাস্তব সম্মত কি না।

সংবিধান ও প্রতিরোধের রাজনীতি
মিনেসোটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একাধিক ধারা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিক্ষোভের অধিকার, অস্ত্র বহনের প্রশ্ন এবং বাড়িতে তল্লাশির আইনি সীমা নিয়ে মামলা ও বিতর্ক প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেকের মতে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে সংবিধান এখনো নাগরিকদের হাতে কার্যকর প্রতিরোধের হাতিয়ার।
রাজনৈতিক ঝুঁকি ও নির্বাচনী অঙ্ক
অভিবাসন ইস্যু ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হলেও সামরিক কায়দায় বহিষ্কার ও কঠোর অভিযান সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই কৌশল তার জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে ও সতর্কবার্তা শোনা যাচ্ছে।

শক্তিমান নেতার ভাবমূর্তি কি টলছে
২০২৬ সালের প্রথম মাসই দেখিয়ে দিল, ট্রাম্পের শক্তিমান ও অপ্রতিরোধ্য নেতার ভাবমূর্তি এখনো পুরোপুরি পাকা হয়ে যায়নি। দেশের ভেতরে জনরোষ, আদালতের হস্তক্ষেপ ও রাজ্য সরকারের প্রতিরোধ এবং বিদেশে মিত্রদের সম্মিলিত অবস্থান তার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সীমাবদ্ধ করছে। সামনে আরও সংঘাত ও অস্থিরতা আসতে পারে, তবে এই মুহূর্তে স্পষ্ট যে সব ক্ষেত্রে ট্রাম্প নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারছেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















