মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের সময় এক ব্যক্তির প্রাণঘাতী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে প্রথমবারের মতো পিছু হটার ইঙ্গিত দিল হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মাঠপর্যায়ের অভিযানের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে এবং রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তাও দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
নেতৃত্ব বদল ও কৌশল পরিবর্তনের আভাস
মিনিয়াপোলিসে অভিযানের সময় কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত সীমান্ত বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা টম হোম্যান। প্রশাসনের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই বদল অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কৌশল থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই কিছু ফেডারেল এজেন্ট শহর ছাড়তে পারেন।

গভর্নর ও মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে তিনি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। একই দিনে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
ভুল বর্ণনা ও সমালোচনার ঝড়
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে শুরুতে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় হোয়াইট হাউস। তদন্ত শুরু হওয়ার কথা জানানো হলেও ডেমোক্র্যাট নেতা ও স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের ওপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার দায় চাপানো হয়েছে।

রিপাবলিকানদের ভেতরের উদ্বেগ
এই ঘটনার পর রিপাবলিকান দলের ভেতরেও অস্বস্তি বেড়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন, সহিংসতা ও কঠোর অভিযানের ছবি দলটির অভিবাসন নীতিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কেউ কেউ কংগ্রেসীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনমত ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন বাহিনীর কৌশল নিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন কমছে। মিনেসোটার ঘটনাগুলো সেই অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে ধারণা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন কর্মসূচিই বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সামনে কী
টম হোম্যান মিনেসোটায় পৌঁছে গভর্নর ও মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। লক্ষ্য একদিকে উত্তেজনা কমানো, অন্যদিকে রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে জমে থাকা ক্ষোভ কত দ্রুত প্রশমিত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















