চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নগরের ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নগরের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে শাটল ট্রেনে ওঠেন ইমু মনি জ্যোতি নামের ওই ছাত্রী। ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছানোর পর বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর এসে সরাসরি তার নাকে আঘাত করে।

আহত শিক্ষার্থীর পরিচয়
আহত ইমু মনি জ্যোতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দুই হাজার বিশ থেকে একুশ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায়। পাথরের আঘাতে তার নাকের নিচ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত গভীরভাবে কেটে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে পাঠানো
ঘটনার পর শাটল ট্রেনে থাকা সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসকের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আহত ছাত্রীকে মেডিকেল সেন্টারে আনা হয়েছিল। পাথরের আঘাতে তার নাকের নিচ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ক্ষতের গভীরতা বেশি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান বলেন, শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, জড়িতদের ধরতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা থাকে, স্টেশন মাস্টারদের সতর্ক করা হয় এবং নিয়মিত মাইকিং করা হয়। এসব ব্যবস্থার পরও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















