আধুনিক স্মার্ট ঘড়ি এখন শুধু সময় দেখায় না, শরীরের ভেতরের নানা সংকেতও তুলে ধরে। পা কতটা চলল বা হৃদস্পন্দনের গতি কত, এসব সাধারণ পরিমাপের বাইরে এখন আলোচনায় এসেছে হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্য। এটি এমন এক সূচক, যা হৃদয়ের ধাক্কার গতি নয়, বরং এক ধাক্কা থেকে আরেক ধাক্কার মাঝের ব্যবধান কতটা ওঠানামা করছে তা জানায়।
হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্য কীভাবে কাজ করে
সাধারণভাবে হৃদস্পন্দনের ক্ষেত্রে কম গতি ভালো বলে ধরা হয়, কারণ তা শারীরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। এখানে সংখ্যাটি যত বেশি, ততই ভালো। এর কারণ শরীরের স্নায়ুতন্ত্র যেভাবে হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ করে। হৃদয় নিজে থেকে প্রায় একশো বার স্পন্দিত হতে চায়। কিন্তু শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র এই গতি বাড়ায় বা কমায়।
এই স্নায়ুতন্ত্রের এক অংশ উত্তেজনা বা বিপদের সময় হৃদয়কে দ্রুত করে তোলে। ব্যায়াম, ভয় কিংবা উত্তেজনায় এই অংশ সক্রিয় হয় এবং হৃদস্পন্দনকে একটানা ও নিয়মিত করে দেয়। অন্য অংশটি বিশ্রাম ও আরামের সময় হৃদয়ের গতি কমায়। এটি স্নায়ুর মাধ্যমে মুহূর্তে মুহূর্তে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। ফলে শ্বাস নেওয়ার সময় হৃদস্পন্দন সামান্য বাড়ে, আর শ্বাস ছাড়ার সময় কমে। এই ওঠানামাই হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্য তৈরি করে।
স্ট্রেস আর শরীরের চাপের ইঙ্গিত
শরীর বা মনের ওপর চাপ বাড়লে উত্তেজনামূলক স্নায়ুতন্ত্র বেশি সক্রিয় হয়। তখন হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্য কমে যায়। এই চাপ হতে পারে ভারী ব্যায়াম, ঘুমের অভাব, অসুস্থতা, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা আর্থিক দুশ্চিন্তা। কঠিন অনুশীলনের পর অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর্যন্ত এই সূচক কমে থাকতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার নতুন জানালা
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের হৃদস্পন্দনের বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি, তাদের শরীর জীবনের নানা চাপের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম এবং হৃদরোগ হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি। স্মৃতিভ্রংশের অগ্রগতি ধীর হওয়া, শরীরে প্রদাহ কম থাকা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কম থাকার সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে কীভাবে কাজে লাগে
অনেকে এই সূচককে জমে থাকা চাপের পরিমাপ হিসেবে দেখেন। নিয়মিত খেলাধুলা করা মানুষদের জন্য কম মানে শরীর অতিরিক্ত চাপ নিচ্ছে কি না, তার ইঙ্গিত হতে পারে। তখন কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংখ্যার ব্যাখ্যা সতর্কভাবে করতে হয়। সাইকেল চালিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের পর সকালে এই মান কম হতে পারে। আবার আগের রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান বা হঠাৎ কোনো দুশ্চিন্তার কারণেও একই ফল দেখা যেতে পারে।

তথ্য থেকে বোঝাপড়া
যারা নিয়মিত এই সূচক অনুসরণ করেন, তাদের জন্য দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার নোট রাখা কাজে আসতে পারে। কারণ সংখ্যা নিজে থেকে শুধু তথ্য দেয়। সেই তথ্যকে জীবনের প্রেক্ষাপটে বোঝার মধ্য দিয়েই তা সত্যিকারের কাজে লাগে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















