ভারতের অটোমোবাইল বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোতে গিয়ে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষিত থাকা এই খাত প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে খুলে দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে।
বাণিজ্য আলোচনা ও সম্ভাব্য ঘোষণা
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতাশটি দেশের সঙ্গে চলমান আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে ভারত সম্মত হয়েছে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইউরোপীয় গাড়ির ওপর শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমাতে। আগামী দিনে দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারে। এরপর চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই চুক্তিকে ঘিরে নীতিনির্ধারক মহলে একে ইতিহাসের অন্যতম বড় বাণিজ্য সমঝোতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

শুল্ক কমার পরিসর ও শর্ত
বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর ভারতে শুল্কের হার অনেক ক্ষেত্রে সত্তর থেকে একশ দশ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পনেরো হাজার ইউরোর বেশি দামের নির্দিষ্ট সংখ্যক গাড়ির ক্ষেত্রে এই শুল্ক কমে চল্লিশ শতাংশে নামবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও কমে দশ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।
বিদ্যুৎচালিত গাড়ি নিয়ে সতর্কতা
তবে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এখনই ছাড় দিচ্ছে না ভারত। দেশীয় বিনিয়োগ ও নবীন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে প্রথম পাঁচ বছর এসব গাড়ি শুল্ক ছাড়ের বাইরে থাকবে। এই সময়ের পর ধীরে ধীরে একই কাঠামোর আওতায় বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউরোপীয় নির্মাতাদের সম্ভাব্য লাভ
শুল্ক কমার ফলে ইউরোপের বড় বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা ভারতে কিছু উৎপাদন করলেও উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি করা মডেলের পরিসর সীমিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। শুল্ক কমলে কম দামে গাড়ি বিক্রি করা যাবে এবং বাজার যাচাই করে ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
ভারতীয় বাজারের বর্তমান চিত্র
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজার হলেও ভারতের অটো খাত এখনো মূলত দেশীয় ও জাপানি ব্র্যান্ডের দখলে। মোট বিক্রির বড় অংশই একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশীয় দুই নির্মাতার হাতে। ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব এখনো খুব কম। তবে আগামী কয়েক বছরে বাজারের আকার আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে।
বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড় কার্যকর হলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ভারতকে শুধু বিক্রির বাজার নয়, ভবিষ্যৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপে প্রতিযোগিতা বাড়ায় এশিয়ার বড় বাজারে নতুন কৌশল নিয়ে ফিরতে চাইছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















