দুবাইয়ে খাদ্য ও পানীয় খাতের বৈশ্বিক মেলা গালফুডের একত্রিশ তম আসরে অংশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বলেছেন, খাদ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বাজার ব্যবস্থার দক্ষতার ওপর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে কাজ করছে আমিরাত।
নতুন ভেন্যুতে ঐতিহাসিক গালফুড
দুবাই এক্সপো সিটির সম্প্রসারিত প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গালফুড দুই হাজার ছাব্বিশ ছিল নতুন ভেন্যুতে আয়োজিত প্রথম অনুষ্ঠান। এই আয়োজন দুবাইয়ের প্রদর্শনী খাতের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ মোহাম্মদ বলেন, বাণিজ্য ও শিল্পের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাই তার অবস্থান আরও শক্ত করছে এবং বাজার, উৎপাদক ও উদ্ভাবকদের একত্রিত করার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব
খাদ্য নিরাপত্তাকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেখ মোহাম্মদ বলেন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ছাড়া এই খাতে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি জানান, উন্মুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ ও নতুন ধারণাকে স্বাগত জানিয়ে আমিরাত চ্যালেঞ্জকে উন্নয়নের সুযোগে রূপান্তর করছে।
দেশভিত্তিক প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন শেখ মোহাম্মদ
পরিদর্শনের সময় শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ছিলেন দুবাইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্ক, ইতালি, ভারত, স্পেন ও ইউক্রেন সহ বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। খাদ্য শিল্প, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং রপ্তানি সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহের সঙ্গে খোঁজখবর নেন তিনি। সৌদি আরব ও মিশরের প্যাভিলিয়নেও আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে গালফুডের বিস্তার
গালফুডের এবারের আসর আকার ও প্রভাবের দিক থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়। দুবাই প্রদর্শনী কেন্দ্রের সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগ দুবাইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নেতৃত্বের কৌশলকে আরও জোরালো করেছে। প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলোর শক্ত উপস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন পথ তৈরি করছে।
অস্ট্রেলীয় মাংস রপ্তানিতে রেকর্ড
মেলার ফাঁকে জানানো হয়, দুই হাজার পঁচিশ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলীয় মাংস রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অঞ্চলে খাদ্যপণ্যের বাড়তে থাকা চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















