ডলারের বিপরীতে সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতীয় রুপি এখনো ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়ে গেছে। সোমবার সকালের লেনদেনে রুপি ডলারের বিপরীতে ১০ পয়সা শক্ত হয়ে প্রতি ডলারে ৯১ দশমিক ৮০ টাকায় দাঁড়ায়। এর আগে শুক্রবার প্রথমবারের মতো রুপি ৯২ টাকার কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল এবং দিন শেষে লেনদেন হয় ৯১ দশমিক ৯০ টাকায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটির কারণে সোমবার ভারতের শেয়ারবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল।
ডলারের বিপরীতে এই সামান্য শক্তি এলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের বিপরীতে রুপি এখনো প্রায় রেকর্ড নিম্নস্তরেই রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় প্রবাসী এবং অর্থ পাঠানোদের ওপর চাপ অব্যাহত আছে।
ডলারের স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতার প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতাই রুপিকে সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ডলারের সামগ্রিক দুর্বলতা দেখে আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় রুপিতে অল্প স্বস্তি এসেছে। তবে এই শক্তি দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি অর্থ বেরিয়ে যাওয়া
রুপির ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা শেয়ার বিক্রি। জানুয়ারি মাসেই প্রায় চারশ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি অর্থ ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে গেছে। এতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং রুপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দুর্বল হয়েছে।
দ্রুত পতনে বদলাচ্ছে বাজারের মনোভাব
গত সপ্তাহে রুপির দর এক শতাংশের বেশি কমেছে। এই দ্রুত পতন বাজারের প্রত্যাশা বদলে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, গতি যত বাড়ছে, সামনে রুপির দুর্বলতার ঝুঁকিও তত বেশি। ফলে অনেকেই আগেভাগেই ডলার কিনে নিচ্ছেন।
আরও অবমূল্যায়নের আশঙ্কা
রুপির দুর্বলতা থেকেই ভবিষ্যতে আরও পতনের ধারণা তৈরি হচ্ছে। আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা ডলার কেনার গতি বাড়াচ্ছেন, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যায়। এই আচরণ রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর হেজিং বেড়েছে
ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, বড় বড় প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সামলাতে মুদ্রা হেজিং বাড়িয়েছে। একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান হেজিং করলে ডলারের তাৎক্ষণিক চাহিদা বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্পট বাজারে।
জল্পনাভিত্তিক লেনদেনের প্রভাব
বাজারে জল্পনাকারীরাও ডলারের পক্ষে অবস্থান জোরদার করেছে। এই ধরনের লেনদেন চলমান প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ফলে রুপিতে যে কোনো সাময়িক স্বস্তি দ্রুতই হারিয়ে যাচ্ছে।
সোনার আমদানিতে ডলারের বাড়তি চাহিদা
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা আরও বাড়ছে। বাণিজ্য খাত থেকে আসা এই চাপ শেয়ারবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল নয়, ফলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে রুপিকে চাপে রাখতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত ভূমিকা
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করছে। তবে বাজার অংশগ্রহণকারীদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো বিনিময় হার ধরে রাখার বদলে বিভিন্ন স্তরে ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে হঠাৎ বড় ধাক্কা কমলেও সামগ্রিক পতন থামানো যাচ্ছে না।
ডলার দুর্বল হলেও ঝুঁকি কাটেনি
ডলার সূচক চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামায় রুপি কিছুটা সহায়তা পেতে পারে। জাপানি ইয়েনের শক্তি বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরকারি অচলাবস্থা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা ডলারকে চাপে রেখেছে। তবু বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ স্থিতিশীল না হওয়া এবং আমদানি ও হেজিংয়ের কারণে ডলারের চাহিদা কমে না এলে রুপির দুর্বলতা কাটবে না। ফলে দিরহামের বিপরীতে রুপির দর নিয়ে উদ্বেগ আপাতত থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















