দেশজুড়ে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে মাঠে নামছে জামায়াতে ইসলামী। আগামী ৩১ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। জামায়াতের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া তাদের নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও হামলা চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি এবং তারা সারাদেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এতে একটি পক্ষ আতঙ্কিত হয়ে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
ডা. তাহের জানান, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, ভোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও নারীদের হাত কিংবা জিহ্বা কেটে ফেলার মতো ভয়ংকর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, যারা প্রকাশ্যে নারী অধিকারের কথা বলেন, তারাই এখন নারীদের ওপর দমনমূলক আচরণ করছেন।

নির্বাচন ঘিরে আতঙ্ক ও অভিযোগ
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, একটি পক্ষ বুঝে গেছে তারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না, তাই কেন্দ্র দখল ও ভীতি ছড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতীতের মতো আবারও অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা হলে আন্দোলনের পথেই যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ও প্রশ্ন তোলেন।
৩১ জানুয়ারির কর্মসূচি
ডা. তাহের জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে মহিলা সংগঠন ও শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, নারীদের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করতে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে নারীদের পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















