কিছু মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব ক্ষমতায় ক্যানসারকে দমিয়ে রাখতে পারে—এই বিস্ময়কর সত্য থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন ধরনের চিকিৎসার আশা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত কিছু রোগীর শরীরে থাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি রোগের অগ্রগতি থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, গবেষকরা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই নতুন ওষুধ তৈরির পথ দেখাতে পারে।
ক্যানসারের ভিন্ন আচরণ ঘিরে গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এডওয়ার্ড প্যাটজ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছিলেন, একই ধরনের ক্যানসার হলে ও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত ছড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে বছরের পর বছর স্থির থাকে। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতেই তিনি ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের রক্ত ও টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তিনি একটি অ্যান্টিবডির সন্ধান পান, যার নাম জিটি এক শূন্য তিন।
অ্যান্টিবডির ভূমিকা কী
গবেষণায় দেখা যায়, যেসব রোগীর শরীরে জিটি এক শূন্য তিন উপস্থিত ছিল, তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এই অ্যান্টিবডি ক্যানসার কোষের এক ধরনের সুরক্ষা আবরণ ভেঙে দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায়ও এই প্রক্রিয়া কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

রোগীদের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা
এরপর গবেষকেরা সীমিত পরিসরে মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করেন। যেসব রোগীর প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছিল, এমন একত্রিশ জনকে নিয়ে এই পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর টিউমার সাময়িকভাবে বেড়ে ওঠা বন্ধ করে দেয়। এক রোগীর ক্ষেত্রে টানা নয় থেকে দশ মাস পর্যন্ত ক্যানসার স্থির ছিল, যা চিকিৎসকদের আশাবাদী করেছে।
ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে মিলন
পরবর্তী ধাপে এই অ্যান্টিবডির সঙ্গে একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি যুক্ত করা হয়। লক্ষ্য ছিল, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একাধিক পথ কে সক্রিয় করে ক্যানসার দমন করা। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার স্থিতিশীল থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে আবার বাড়তে শুরু করে। তবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনায় এক রোগীর শরীর থেকে সম্পূর্ণভাবে ক্যানসার অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দুই বছর ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিনি সুস্থ আছেন।
সামনে কী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়ন্ত্রিত ও বৃহৎ পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন, যেখানে শত শত রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবু মানব দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে—এই ধারণাই গবেষকদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















