১১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
সাদা রঙের নতুন গেমিং ল্যাপটপ আনল এমএসআই, সঙ্গে মিলবে বিশেষ আনুষঙ্গিক সামগ্রী ইউরোপজুড়ে তীব্র খরায় রাইন নদীর পানি ইতিহাসের সর্বনিম্নে, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে বাড়ছে সংকট গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে ডেনমার্ক, বাড়ছে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা সিলিকন ভ্যালির লবিং কি যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কে নতুন অবিশ্বাস তৈরি করছে? যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয় দিয়েগো গার্সিয়া, বাস্তুচ্যুত চাগোসবাসী ও ভূরাজনীতি: বার্নহামের সামনে কঠিন পরীক্ষা হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% বাড়ির অতিরিক্ত জায়গা কাজে লাগানোর ৫টি সেরা এবং ৩টি খারাপ উপায়, জানালেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা: যে কথাগুলো না বললে প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাগুজে সম্পদের উল্লম্ফন: বিশ্বের সম্পদ কি বাস্তব অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে?

কিছু রোগীর শরীরই ক্যানসার ঠেকায়: সেই প্রতিরোধ শক্তি কি ওষুধে রূপ নিতে পারে

কিছু মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব ক্ষমতায় ক্যানসারকে দমিয়ে রাখতে পারে—এই বিস্ময়কর সত্য থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন ধরনের চিকিৎসার আশা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত কিছু রোগীর শরীরে থাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি রোগের অগ্রগতি থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, গবেষকরা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই নতুন ওষুধ তৈরির পথ দেখাতে পারে।

ক্যানসারের ভিন্ন আচরণ ঘিরে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এডওয়ার্ড প্যাটজ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছিলেন, একই ধরনের ক্যানসার হলে ও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত ছড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে বছরের পর বছর স্থির থাকে। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতেই তিনি ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের রক্ত ও টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তিনি একটি অ্যান্টিবডির সন্ধান পান, যার নাম জিটি এক শূন্য তিন।

অ্যান্টিবডির ভূমিকা কী

গবেষণায় দেখা যায়, যেসব রোগীর শরীরে জিটি এক শূন্য তিন উপস্থিত ছিল, তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এই অ্যান্টিবডি ক্যানসার কোষের এক ধরনের সুরক্ষা আবরণ ভেঙে দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায়ও এই প্রক্রিয়া কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

 

Immunofluorescence staining of NF-kB (green) and nucleus (DAPI, blue).... |  Download Scientific Diagram

রোগীদের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা

এরপর গবেষকেরা সীমিত পরিসরে মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করেন। যেসব রোগীর প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছিল, এমন একত্রিশ জনকে নিয়ে এই পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর টিউমার সাময়িকভাবে বেড়ে ওঠা বন্ধ করে দেয়। এক রোগীর ক্ষেত্রে টানা নয় থেকে দশ মাস পর্যন্ত ক্যানসার স্থির ছিল, যা চিকিৎসকদের আশাবাদী করেছে।

ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে মিলন

পরবর্তী ধাপে এই অ্যান্টিবডির সঙ্গে একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি যুক্ত করা হয়। লক্ষ্য ছিল, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একাধিক পথ কে সক্রিয় করে ক্যানসার দমন করা। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার স্থিতিশীল থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে আবার বাড়তে শুরু করে। তবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনায় এক রোগীর শরীর থেকে সম্পূর্ণভাবে ক্যানসার অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দুই বছর ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিনি সুস্থ আছেন।

সামনে কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়ন্ত্রিত ও বৃহৎ পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন, যেখানে শত শত রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবু মানব দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে—এই ধারণাই গবেষকদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদা রঙের নতুন গেমিং ল্যাপটপ আনল এমএসআই, সঙ্গে মিলবে বিশেষ আনুষঙ্গিক সামগ্রী

কিছু রোগীর শরীরই ক্যানসার ঠেকায়: সেই প্রতিরোধ শক্তি কি ওষুধে রূপ নিতে পারে

০১:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কিছু মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজস্ব ক্ষমতায় ক্যানসারকে দমিয়ে রাখতে পারে—এই বিস্ময়কর সত্য থেকেই জন্ম নিচ্ছে নতুন ধরনের চিকিৎসার আশা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত কিছু রোগীর শরীরে থাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি রোগের অগ্রগতি থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, গবেষকরা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই নতুন ওষুধ তৈরির পথ দেখাতে পারে।

ক্যানসারের ভিন্ন আচরণ ঘিরে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এডওয়ার্ড প্যাটজ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছিলেন, একই ধরনের ক্যানসার হলে ও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত ছড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে বছরের পর বছর স্থির থাকে। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতেই তিনি ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের রক্ত ও টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তিনি একটি অ্যান্টিবডির সন্ধান পান, যার নাম জিটি এক শূন্য তিন।

অ্যান্টিবডির ভূমিকা কী

গবেষণায় দেখা যায়, যেসব রোগীর শরীরে জিটি এক শূন্য তিন উপস্থিত ছিল, তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের ফুসফুসের ক্যানসার তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এই অ্যান্টিবডি ক্যানসার কোষের এক ধরনের সুরক্ষা আবরণ ভেঙে দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায়ও এই প্রক্রিয়া কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

 

Immunofluorescence staining of NF-kB (green) and nucleus (DAPI, blue).... |  Download Scientific Diagram

রোগীদের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষা

এরপর গবেষকেরা সীমিত পরিসরে মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করেন। যেসব রোগীর প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছিল, এমন একত্রিশ জনকে নিয়ে এই পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর টিউমার সাময়িকভাবে বেড়ে ওঠা বন্ধ করে দেয়। এক রোগীর ক্ষেত্রে টানা নয় থেকে দশ মাস পর্যন্ত ক্যানসার স্থির ছিল, যা চিকিৎসকদের আশাবাদী করেছে।

ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে মিলন

পরবর্তী ধাপে এই অ্যান্টিবডির সঙ্গে একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপি যুক্ত করা হয়। লক্ষ্য ছিল, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একাধিক পথ কে সক্রিয় করে ক্যানসার দমন করা। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার স্থিতিশীল থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে আবার বাড়তে শুরু করে। তবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনায় এক রোগীর শরীর থেকে সম্পূর্ণভাবে ক্যানসার অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দুই বছর ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিনি সুস্থ আছেন।

সামনে কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়ন্ত্রিত ও বৃহৎ পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন, যেখানে শত শত রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবু মানব দেহের নিজস্ব প্রতিরোধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে—এই ধারণাই গবেষকদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।