০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগের দিনে টিকে থাকার পাঠ: কেন বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের দুশ্চিন্তা, প্রশ্নের উত্তর দিলেন জো হার্ট ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ আলকারাজ

মেলবোর্ন পার্কে মঙ্গলবার রাতে স্তব্ধ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা। স্বপ্ন ভাঙে স্বাগতিকদের। স্পেনের তরুণ তারকা কার্লোস আলকারাজ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন, তাও দাপুটে ভঙ্গিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারালেন স্বাগতিকদের আশা আলেক্স ডি মিনাউরকে—৭–৫, ৬–২, ৬–১।

২২ বছর বয়সী আলকারাজের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম স্বপ্নকে জীবিত রাখল। মেলবোর্নে এটি ছিল তার সবচেয়ে পরিণত পারফরম্যান্সগুলোর একটি—ঝলক নয়, নিয়ন্ত্রণে ভরা টেনিস।

দক্ষতায় নয়, নিয়ন্ত্রণে জয়

রড লেভার অ্যারেনায় আলকারাজ শুরু থেকেই দেখালেন ভিন্ন এক রূপ। আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শটের প্রদর্শনী নয়, বরং নিখুঁত সিদ্ধান্ত আর ধৈর্যের পরীক্ষা। ষষ্ঠ বাছাই ডি মিনাউর শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। প্রথম সেটে একাধিকবার ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন। দর্শকদের উজ্জীবিত করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আলকারাজ ছিলেন স্থির।

প্রথম সেটে ৪–৪ হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় স্প্যানিশ তারকার হাতে। নিজেই পরে বলেন, ডি মিনাউরের বিপক্ষে ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রতিটি পয়েন্ট জিততে হয় তিন-চারবার চেষ্টা করে। সেই ধৈর্যই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় সেটে আর কোনো ছাড় দেননি আলকারাজ। শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্টে ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিজের পক্ষে নিয়ে নেন। স্কোরলাইন দ্রুতই বড় হতে থাকে। তৃতীয় সেটে ডি মিনাউর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রথম সার্ভিস হারানোর পর আর ফিরতে পারেননি।

ইতিহাসের হাতছানি, সামনে বড় লড়াই

ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা আলকারাজ এখন ইতিহাসের খুব কাছে। তিনি চাইছেন সবচেয়ে কম বয়সে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই অন্তত একবার করে জেতা পুরুষ খেলোয়াড় হতে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই সেমিফাইনাল সেই পথেরই এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এবার সেমিফাইনালে তার সামনে অপেক্ষা জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভ। এটি তাদের পুরোনো দ্বৈরথের পুনরাবৃত্তি। ২০২৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে এই জভেরেভই আলকারাজকে হারিয়েছিলেন। আলকারাজ জানেন, কাজ সহজ নয়। তিনি বলেছেন, জভেরেভ এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছেন। শক্তিশালী সার্ভিস, আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সবই আছে।

তবু আলকারাজ আত্মবিশ্বাসী। তার কথায়, এই ম্যাচ হবে বড় লড়াই। আর তিনি প্রস্তুত। মেলবোর্নে ইতিহাস লেখার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সেই ইতিহাস কি বাস্তব রূপ পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩০ বছরের ঐতিহাসিক ঘড়ির নতুন জীবন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে বিশেষ আয়োজন

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ আলকারাজ

১২:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মেলবোর্ন পার্কে মঙ্গলবার রাতে স্তব্ধ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা। স্বপ্ন ভাঙে স্বাগতিকদের। স্পেনের তরুণ তারকা কার্লোস আলকারাজ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন, তাও দাপুটে ভঙ্গিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারালেন স্বাগতিকদের আশা আলেক্স ডি মিনাউরকে—৭–৫, ৬–২, ৬–১।

২২ বছর বয়সী আলকারাজের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম স্বপ্নকে জীবিত রাখল। মেলবোর্নে এটি ছিল তার সবচেয়ে পরিণত পারফরম্যান্সগুলোর একটি—ঝলক নয়, নিয়ন্ত্রণে ভরা টেনিস।

দক্ষতায় নয়, নিয়ন্ত্রণে জয়

রড লেভার অ্যারেনায় আলকারাজ শুরু থেকেই দেখালেন ভিন্ন এক রূপ। আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শটের প্রদর্শনী নয়, বরং নিখুঁত সিদ্ধান্ত আর ধৈর্যের পরীক্ষা। ষষ্ঠ বাছাই ডি মিনাউর শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেন। প্রথম সেটে একাধিকবার ব্রেক পয়েন্ট আদায় করেন। দর্শকদের উজ্জীবিত করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আলকারাজ ছিলেন স্থির।

প্রথম সেটে ৪–৪ হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় স্প্যানিশ তারকার হাতে। নিজেই পরে বলেন, ডি মিনাউরের বিপক্ষে ধৈর্য হারালে চলবে না। প্রতিটি পয়েন্ট জিততে হয় তিন-চারবার চেষ্টা করে। সেই ধৈর্যই তাকে আলাদা করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় সেটে আর কোনো ছাড় দেননি আলকারাজ। শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্টে ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিজের পক্ষে নিয়ে নেন। স্কোরলাইন দ্রুতই বড় হতে থাকে। তৃতীয় সেটে ডি মিনাউর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রথম সার্ভিস হারানোর পর আর ফিরতে পারেননি।

ইতিহাসের হাতছানি, সামনে বড় লড়াই

ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা আলকারাজ এখন ইতিহাসের খুব কাছে। তিনি চাইছেন সবচেয়ে কম বয়সে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই অন্তত একবার করে জেতা পুরুষ খেলোয়াড় হতে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই সেমিফাইনাল সেই পথেরই এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এবার সেমিফাইনালে তার সামনে অপেক্ষা জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভ। এটি তাদের পুরোনো দ্বৈরথের পুনরাবৃত্তি। ২০২৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে এই জভেরেভই আলকারাজকে হারিয়েছিলেন। আলকারাজ জানেন, কাজ সহজ নয়। তিনি বলেছেন, জভেরেভ এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলছেন। শক্তিশালী সার্ভিস, আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সবই আছে।

তবু আলকারাজ আত্মবিশ্বাসী। তার কথায়, এই ম্যাচ হবে বড় লড়াই। আর তিনি প্রস্তুত। মেলবোর্নে ইতিহাস লেখার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সেই ইতিহাস কি বাস্তব রূপ পায়।