০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
র‌্যাকেট ভাঙার ভিডিও প্রচারে ক্ষুব্ধ গফ, সম্প্রচারে গোপনীয়তার প্রশ্ন যেখানে সিনেমা, রান্না আর পরিবার এক টেবিলে এসে বসে কিছু রোগীর শরীরই ক্যানসার ঠেকায়: সেই প্রতিরোধ শক্তি কি ওষুধে রূপ নিতে পারে অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ আলকারাজ খোলপেটুয়া নদী: দক্ষিণ-পশ্চিমের এক জরুরি ধমনী — একটি বিস্তৃত ফিচার সংকুচিত নাগরিক পরিসর: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানাল অ্যামনেস্টি মায়েদের গায়ে হাত দিলে চুপ করে বসে থাকবো না: জামায়াত আমির হিন্দুরা যারা অন্যায় করেছে তাদের শুধু শাস্তি হবে – মির্জা ফখরুল জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকার ‘এনজি সরকার’: আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন দিতে হয় ১০ লাখ—আজম জে চৌধুরী

যেখানে সিনেমা, রান্না আর পরিবার এক টেবিলে এসে বসে

বলিউডের কপূর পরিবারকে ঘিরে আতিথেয়তার গল্প নতুন কিছু নয়। শোনা যায়, অতিথি আপ্যায়ন যেন তাদের রক্তে। কিন্তু সেই গল্পের ভেতর ঢুকে পড়ার সুযোগ সবার হয় না। দুবাইয়ের এক হোটেলের লবিতে অপেক্ষার সময়ও অতিথির যত্নে কোনো ঘাটতি রাখেননি অরমান জৈন। বাড়ি নয়, তবু অতিথি মানেই দায়িত্ব—এই বিশ্বাসটাই যেন কপূর ঘরানার স্বাভাবিক ভাষা।

এই সহজ, মানবিক অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় শো Dining With the Kapoors–এ। যার ভাবনা ও নির্মাণের পেছনে রয়েছেন অরমান জৈন—খাবার, পরিবার আর গল্প বলার এক আন্তরিক মিলনবিন্দু।

রান্নাঘরের পথে অরমান জৈন

শৈশব থেকেই খাবারের সঙ্গে অরমানের সম্পর্ক গভীর। মায়ের দিকের পরিবারে রান্না ছিল আবেগের জায়গা। বাবা পেশায় বিনিয়োগ ব্যাংকার হলেও রান্নায় ছিলেন ভীষণ আগ্রহী। তবে কোভিড সময়টাই তাকে সত্যিকার অর্থে রান্নাঘরের মানুষ করে তোলে। পরিবারকে খাওয়াতে খাওয়াতেই তিনি বুঝে যান—খাবার শুধু স্বাদ নয়, এটি এক ধরনের পূর্ণতার অনুভূতি।

স্ত্রী আনিসার সঙ্গে শুরুটা ছিল একেবারে ঘরোয়া। রান্না, প্যাকিং, কখনো নিজেরাই ডেলিভারি। কোনো রাজকীয়তা নয়, ছিল নিখাদ ভালোবাসা। এই ভাবনাই জন্ম দেয় The Junglee Kitchen নামের উদ্যোগটির। ‘জাঙ্গলি’ শব্দটি তিনি বেছে নেন সচেতনভাবেই। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, রান্না আসে অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকে। হাতেই রান্না, নিয়মের চেয়ে স্বাদে বিশ্বাস—এই দর্শনই নামের ভেতর ধরা।

Dining With The Kapoors: REAL reason why Alia Bhatt skipped the family  gathering; producer Armaan Jain reveals

এই যাত্রায় বড় প্রেরণা ছিলেন তার স্ত্রী। মায়ের আর দিদিমার খাতায় লেখা রেসিপিই হয়ে ওঠে দিশা। ইয়াখনি পোলাও, বাটার চিকেন—এসব রেসিপি এসেছে কপূর পরিবারের রান্নাঘর থেকে, অনুপ্রেরণা Krishna Raj Kapoor–এর সময় থেকে, উত্তরাধিকার Prithviraj Kapoor–এর যুগ পেরিয়ে।

দামের বিষয়েও ছিল স্পষ্ট ভাবনা। অরমান চান, কপূর পরিবারের খাবার যেন সাধারণ মানুষও ঘরে বসে অর্ডার করতে পারে। শুরুতে রান্নাঘরে ছিলেন শুধু তিনি, তার স্ত্রী আর একজন রাঁধুনি। গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি দেখা, প্রতিক্রিয়া শোনা—এই যোগাযোগটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের টেবিলে ফিরে দেখা

নেটফ্লিক্সকে বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল সময়ের তাৎপর্য। ২০২৫ সাল মানে Raj Kapoor–এর জন্মশতবর্ষ। এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইরান, রাশিয়াতেও ছড়িয়েছে। সেই গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এই প্ল্যাটফর্ম।

অরমান বলেন, এই শো বড় কিছু হওয়ার দাবি করে না। এটি সহজ, স্বস্তির। এমন এক দেখা, যা দর্শককে নিজের পরিবারের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেকেই তাকে বলেছেন, শো দেখার পর বহু বছর পর পুরো পরিবারকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানোর আয়োজন করেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষকে কাছাকাছি আনার সবচেয়ে সহজ পথ খাবার।

রান্নাঘর নিয়ে লিঙ্গভিত্তিক ধারণা নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তার মতে, ঘরের রান্নার শিকড় নারীদের হাতেই। মায়েদের আর দিদিমাদের শেখানো পথেই পরিবার চলে। পুরুষরা একা হলে রান্নাঘর উলটেপালটে ফেলত, এই স্বীকারোক্তিতেও আছে হাসি আর সত্য।

ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে তিনি ভাবছেন মায়ের সঙ্গে বসেই। গল্প হবে ছোট, ঘনিষ্ঠ, স্মৃতিভিত্তিক। অরমান জানেন, সবকিছু পরিকল্পনামতো না-ও চলতে পারে। তবু তিনি শান্ত। সিনেমা, প্রযোজনা আর খাবার—যেগুলো ভালোবাসেন, সেগুলো নিয়েই বাঁচছেন। তার কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

র‌্যাকেট ভাঙার ভিডিও প্রচারে ক্ষুব্ধ গফ, সম্প্রচারে গোপনীয়তার প্রশ্ন

যেখানে সিনেমা, রান্না আর পরিবার এক টেবিলে এসে বসে

০২:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বলিউডের কপূর পরিবারকে ঘিরে আতিথেয়তার গল্প নতুন কিছু নয়। শোনা যায়, অতিথি আপ্যায়ন যেন তাদের রক্তে। কিন্তু সেই গল্পের ভেতর ঢুকে পড়ার সুযোগ সবার হয় না। দুবাইয়ের এক হোটেলের লবিতে অপেক্ষার সময়ও অতিথির যত্নে কোনো ঘাটতি রাখেননি অরমান জৈন। বাড়ি নয়, তবু অতিথি মানেই দায়িত্ব—এই বিশ্বাসটাই যেন কপূর ঘরানার স্বাভাবিক ভাষা।

এই সহজ, মানবিক অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় শো Dining With the Kapoors–এ। যার ভাবনা ও নির্মাণের পেছনে রয়েছেন অরমান জৈন—খাবার, পরিবার আর গল্প বলার এক আন্তরিক মিলনবিন্দু।

রান্নাঘরের পথে অরমান জৈন

শৈশব থেকেই খাবারের সঙ্গে অরমানের সম্পর্ক গভীর। মায়ের দিকের পরিবারে রান্না ছিল আবেগের জায়গা। বাবা পেশায় বিনিয়োগ ব্যাংকার হলেও রান্নায় ছিলেন ভীষণ আগ্রহী। তবে কোভিড সময়টাই তাকে সত্যিকার অর্থে রান্নাঘরের মানুষ করে তোলে। পরিবারকে খাওয়াতে খাওয়াতেই তিনি বুঝে যান—খাবার শুধু স্বাদ নয়, এটি এক ধরনের পূর্ণতার অনুভূতি।

স্ত্রী আনিসার সঙ্গে শুরুটা ছিল একেবারে ঘরোয়া। রান্না, প্যাকিং, কখনো নিজেরাই ডেলিভারি। কোনো রাজকীয়তা নয়, ছিল নিখাদ ভালোবাসা। এই ভাবনাই জন্ম দেয় The Junglee Kitchen নামের উদ্যোগটির। ‘জাঙ্গলি’ শব্দটি তিনি বেছে নেন সচেতনভাবেই। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, রান্না আসে অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকে। হাতেই রান্না, নিয়মের চেয়ে স্বাদে বিশ্বাস—এই দর্শনই নামের ভেতর ধরা।

Dining With The Kapoors: REAL reason why Alia Bhatt skipped the family  gathering; producer Armaan Jain reveals

এই যাত্রায় বড় প্রেরণা ছিলেন তার স্ত্রী। মায়ের আর দিদিমার খাতায় লেখা রেসিপিই হয়ে ওঠে দিশা। ইয়াখনি পোলাও, বাটার চিকেন—এসব রেসিপি এসেছে কপূর পরিবারের রান্নাঘর থেকে, অনুপ্রেরণা Krishna Raj Kapoor–এর সময় থেকে, উত্তরাধিকার Prithviraj Kapoor–এর যুগ পেরিয়ে।

দামের বিষয়েও ছিল স্পষ্ট ভাবনা। অরমান চান, কপূর পরিবারের খাবার যেন সাধারণ মানুষও ঘরে বসে অর্ডার করতে পারে। শুরুতে রান্নাঘরে ছিলেন শুধু তিনি, তার স্ত্রী আর একজন রাঁধুনি। গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি দেখা, প্রতিক্রিয়া শোনা—এই যোগাযোগটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের টেবিলে ফিরে দেখা

নেটফ্লিক্সকে বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল সময়ের তাৎপর্য। ২০২৫ সাল মানে Raj Kapoor–এর জন্মশতবর্ষ। এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইরান, রাশিয়াতেও ছড়িয়েছে। সেই গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই এই প্ল্যাটফর্ম।

অরমান বলেন, এই শো বড় কিছু হওয়ার দাবি করে না। এটি সহজ, স্বস্তির। এমন এক দেখা, যা দর্শককে নিজের পরিবারের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেকেই তাকে বলেছেন, শো দেখার পর বহু বছর পর পুরো পরিবারকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানোর আয়োজন করেছেন। তার বিশ্বাস, মানুষকে কাছাকাছি আনার সবচেয়ে সহজ পথ খাবার।

রান্নাঘর নিয়ে লিঙ্গভিত্তিক ধারণা নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তার মতে, ঘরের রান্নার শিকড় নারীদের হাতেই। মায়েদের আর দিদিমাদের শেখানো পথেই পরিবার চলে। পুরুষরা একা হলে রান্নাঘর উলটেপালটে ফেলত, এই স্বীকারোক্তিতেও আছে হাসি আর সত্য।

ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে তিনি ভাবছেন মায়ের সঙ্গে বসেই। গল্প হবে ছোট, ঘনিষ্ঠ, স্মৃতিভিত্তিক। অরমান জানেন, সবকিছু পরিকল্পনামতো না-ও চলতে পারে। তবু তিনি শান্ত। সিনেমা, প্রযোজনা আর খাবার—যেগুলো ভালোবাসেন, সেগুলো নিয়েই বাঁচছেন। তার কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।