অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর কোকো গফ শুধু ম্যাচই হারাননি, হারিয়েছেন নিজের আবেগ আড়াল করার সুযোগও। ইউক্রেনের এলিনা স্বিতোলিনার কাছে সরাসরি সেটে হেরে হতাশা সামলাতে ক্যামেরার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই মুহূর্তও সম্প্রচারের ফ্রেমে ধরা পড়ে যায়। র্যাকেট ভাঙার ভিডিও বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ায় স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গফ।
মঙ্গলবার মাত্র ৫৯ মিনিটে ৬–১, ৬–২ ব্যবধানে হেরে যান যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বাছাই গফ। ম্যাচে করেন ২৬টি আনফোর্সড এরর। পরাজয়ের পর তিনি ভেন্যুর ভেতর ম্যাচ কল এলাকার কাছে একটি দেয়ালের আড়ালে যান। সেখানেই হতাশায় র্যাকেটটি মেঝেতে আছড়ে মারতে দেখা যায় তাকে। ক্যামেরা সেই দৃশ্য ধরেই ফেলে।
ক্যামেরার বাইরে থাকার চেষ্টাই ছিল উদ্দেশ্য
ম্যাচ শেষে গফ বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন জায়গায় গিয়েছিলেন যেখানে ক্যামেরা থাকার কথা নয়। তার ভাষায়, সম্প্রচার নিয়ে তার ব্যক্তিগত আপত্তি আছে। এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো জনসমক্ষে দেখানোর প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ ইউএস ওপেনের ফাইনালে তার কাছে হারের পর আরিনা সাবালেঙ্কার র্যাকেট ভাঙার ঘটনাও একইভাবে প্রচারিত হয়েছিল।

গফের মতে, এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের একমাত্র সত্যিকারের ব্যক্তিগত জায়গা হলো লকার রুম। মাঠের বাইরে গেলেও ক্যামেরা পিছু ছাড়ে না। এ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিজের হতাশা তিনি দলের সদস্যদের ওপর ঝাড়তে চান না। তারা তার পাশে থেকেছে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তিনি দিতে চান। তাই আবেগ সামলাতে এক মিনিটের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া তার কাছে স্বাভাবিক বিষয়। গফের কথায়, কোর্টে শিশুদের সামনে এমন আচরণ তিনি করেন না। কিন্তু আবেগ চেপে রাখলে তা আশপাশের মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সেটাই তিনি এড়াতে চান।
সাবালেঙ্কাকে অনুপ্রেরণা মানছেন ইয়োভিচ
এদিকে একই দিনে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে আলোচনায় আসেন কিশোরী প্রতিভা ইভা ইয়োভিচ। প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ আটে উঠে তিনি নজর কেড়েছিলেন। তবে বিশ্ব নম্বর এক আরিনা সাবালেঙ্কার সামনে তিনি ছিলেন অসহায়। বেলারুশ তারকা ৬–৩, ৬–০ ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ইয়োভিচ বলেন, মেলবোর্ন পার্কে খেলাই তার কাছে স্বপ্নের মতো। সাবালেঙ্কার খেলার মানকে তিনি অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই খেলোয়াড় কীভাবে নিজের জীবনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে রূপ দিয়েছেন, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান ইয়োভিচ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















