০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
শক্তি প্রদর্শনের মাঝেই সংলাপের ইঙ্গিত, ইরান ইস্যুতে দ্বিমুখী পথে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও নকশায় পরিবর্তন এনে মূলধারায় উঠছে যৌন‑স্বাস্থ্য পণ্য গ্র্যামির মঞ্চে রহস্যময় পরিবেশনা নিয়ে ফিরছেন লেডি গাগা ফেডের নেতৃত্ব বদলের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প উন্নয়নশীল অর্থনীতির কার্বন নির্ভরতা বিশ্বজুড়ে রূপান্তর বাধাগ্রস্ত করছে বয়স্ক কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জোরালো, প্রযুক্তিতে কাজ সহজ করছে হাসপাতাল ঐতিহাসিক উত্থানের পর দুবাইয়ের সোনার দামে সামান্য সংশোধন, বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত ক্রিকেটে টানাপোড়েনের মধ্যেও দিল্লিতে এশিয়ান শুটিংয়ে বাংলাদেশের দুই শুটার নরম শুরুতেই টেকসই সুস্থতা: ২০২৬-এ জনপ্রিয় হচ্ছে ‘৭৫ সফট’ ব্যায়াম ধারা আমেরিকার নিরাপত্তা সতর্কতা: বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ঝুঁকির আশঙ্কা

রোবলক্সে সন্ত্রাসের মহড়া, সিঙ্গাপুরে কিশোরের ওপর কঠোর নজরদারি

সিঙ্গাপুরে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরের অনলাইন চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে সন্ত্রাসী আদর্শে দীক্ষিত হয়ে সে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তার ওপর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনের আওতায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন থেকেই শুরু উগ্রপন্থার যাত্রা

নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরটি বারো বছর বয়স থেকেই অনলাইনে উগ্রপন্থী কনটেন্টের সংস্পর্শে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ভিডিও দেখে সে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরীহ মানুষের রক্ষক হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে। এরপর স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের প্রভাবে তার অনলাইন জগৎ ভরে ওঠে আরও সহিংস প্রচারণায়। দিনে দীর্ঘ সময় ধরে এসব ভিডিও ও লেখা দেখে সে নিজেকে সেই সংগঠনের অংশ বলে ভাবতে শুরু করে।

গেমের ভেতর রক্তাক্ত অভিনয়

অনলাইন গেমের ভেতর কিশোরটি সন্ত্রাসী হামলার দৃশ্য অনুকরণ করে। সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, বিস্ফোরণ, বন্দিদের হত্যা এমনকি শিরচ্ছেদের মতো ভয়াবহ দৃশ্য সে গেমের মাধ্যমে তৈরি ও প্রচার করে। এসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। ঘরে খেলনা অস্ত্র নিয়ে প্রতিদিনই যুদ্ধের অভিনয় ছিল তার রুটিন।

14-year-old S'porean boy recreates ISIS attacks & executions in Roblox, issued  ISA restriction order

সহিংস স্বপ্ন ও বিপজ্জনক ভাবনা

নিজের বয়স কম হওয়ায় সে তখনই বাস্তবে অস্ত্র ধরতে পারবে না, এমন ধারণা থেকে ভবিষ্যতে বিদেশে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কল্পনা করে। নিজেকে শহীদ হিসেবে কল্পনা করাই হয়ে ওঠে তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংস চিন্তাও তার মনে জায়গা করে নেয়। তবে নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, এসব ভাবনা বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ নেওয়ার আগেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

পরিবার জানত, তবু অভিযোগ আসেনি

নিরাপত্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন সহপাঠী তার চরমপন্থী চিন্তার কথা জানতেন। কেউ কেউ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও বিষয়টি যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এতে করে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

Singapore warns of radicalisation via gaming as 2 teens issued orders under  ISA law | South China Morning Post

কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে চরমপন্থা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিভাগ সতর্ক করেছে, অনলাইন গেম ও সহিংস কনটেন্ট কিশোরদের দ্রুত উগ্রপন্থায় ঠেলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই তরুণ বয়সী। কর্তৃপক্ষের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্র পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

নজরদারি ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ

এই কিশোরের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অনলাইন ব্যবহারে কঠোর সীমা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সময়মতো শনাক্ত না হলে এমন ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তি প্রদর্শনের মাঝেই সংলাপের ইঙ্গিত, ইরান ইস্যুতে দ্বিমুখী পথে যুক্তরাষ্ট্র

রোবলক্সে সন্ত্রাসের মহড়া, সিঙ্গাপুরে কিশোরের ওপর কঠোর নজরদারি

০৩:৫১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

সিঙ্গাপুরে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরের অনলাইন চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে সন্ত্রাসী আদর্শে দীক্ষিত হয়ে সে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তার ওপর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনের আওতায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন থেকেই শুরু উগ্রপন্থার যাত্রা

নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরটি বারো বছর বয়স থেকেই অনলাইনে উগ্রপন্থী কনটেন্টের সংস্পর্শে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ভিডিও দেখে সে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরীহ মানুষের রক্ষক হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে। এরপর স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের প্রভাবে তার অনলাইন জগৎ ভরে ওঠে আরও সহিংস প্রচারণায়। দিনে দীর্ঘ সময় ধরে এসব ভিডিও ও লেখা দেখে সে নিজেকে সেই সংগঠনের অংশ বলে ভাবতে শুরু করে।

গেমের ভেতর রক্তাক্ত অভিনয়

অনলাইন গেমের ভেতর কিশোরটি সন্ত্রাসী হামলার দৃশ্য অনুকরণ করে। সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, বিস্ফোরণ, বন্দিদের হত্যা এমনকি শিরচ্ছেদের মতো ভয়াবহ দৃশ্য সে গেমের মাধ্যমে তৈরি ও প্রচার করে। এসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। ঘরে খেলনা অস্ত্র নিয়ে প্রতিদিনই যুদ্ধের অভিনয় ছিল তার রুটিন।

14-year-old S'porean boy recreates ISIS attacks & executions in Roblox, issued  ISA restriction order

সহিংস স্বপ্ন ও বিপজ্জনক ভাবনা

নিজের বয়স কম হওয়ায় সে তখনই বাস্তবে অস্ত্র ধরতে পারবে না, এমন ধারণা থেকে ভবিষ্যতে বিদেশে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কল্পনা করে। নিজেকে শহীদ হিসেবে কল্পনা করাই হয়ে ওঠে তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংস চিন্তাও তার মনে জায়গা করে নেয়। তবে নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, এসব ভাবনা বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ নেওয়ার আগেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

পরিবার জানত, তবু অভিযোগ আসেনি

নিরাপত্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন সহপাঠী তার চরমপন্থী চিন্তার কথা জানতেন। কেউ কেউ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও বিষয়টি যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। এতে করে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

Singapore warns of radicalisation via gaming as 2 teens issued orders under  ISA law | South China Morning Post

কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে চরমপন্থা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিভাগ সতর্ক করেছে, অনলাইন গেম ও সহিংস কনটেন্ট কিশোরদের দ্রুত উগ্রপন্থায় ঠেলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই তরুণ বয়সী। কর্তৃপক্ষের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্র পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

নজরদারি ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ

এই কিশোরের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অনলাইন ব্যবহারে কঠোর সীমা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সময়মতো শনাক্ত না হলে এমন ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।