সিঙ্গাপুরে দ্রুত বয়স বাড়ছে কর্মশক্তির। সেই বাস্তবতায় বয়স্ক কর্মীদের কাজের পরিবেশ আরও সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠন। বাজেট ঘোষণার আগে নিয়োগকর্তা ও সরকারকে একযোগে উদ্যোগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে অভিজ্ঞ কর্মীরা দীর্ঘ সময় উৎপাদনশীলভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
প্রযুক্তিতে বদল, কাজের চাপ কমছে
তান টক সেং হাসপাতালে কর্মরত ঊনসত্তর বছর বয়সী সিনিয়র নার্স লিলিয়ান তেং এনগুয়েন হুয়া বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি তাঁর পেশায় টিকে থাকার বাস্তব শক্তি হয়ে উঠেছে। আগে রোগীদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে প্রতিটি শয্যার জন্য হাতে বসাতে হতো সতর্কতা যন্ত্র, যার ফলে শারীরিক চাপ ছিল অনেক। এখন স্মার্ট পূর্বাভাসভিত্তিক রোগী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেয়ালে বসানো তাপীয় ক্যামেরা ও বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই কষ্টসাধ্য কাজের প্রয়োজন নেই। এতে ভুল সতর্কতা কমেছে, আবার নার্সদের প্রতিক্রিয়ার সময়ও বেড়েছে। লিলিয়ান তেং বলছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি কার্যকরভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন।
ইউনিয়ন ও হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগ
আটাশ জানুয়ারি হাসপাতালে সফরের সময় শ্রমিক সংগঠনের উপমহাসচিব দেসমন্ড তান এই উদ্যোগকে নিয়োগকর্তা ও ইউনিয়নের অর্থবহ সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে এবং প্রশিক্ষণ কমিটির অনুদান ব্যবহার করে হাসপাতালটি দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তি এক হাজার একশ আশি শয্যায় সম্প্রসারণ করবে। বর্তমানে এটি চালু রয়েছে তিনশ এগারো শয্যায়।
বাজেটের আগে স্পষ্ট বার্তা
দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বাজেট ঘোষণার আগে দেসমন্ড তান বলেন, কাজের ধরন নতুন করে সাজানো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বয়সবান্ধব চর্চার মাধ্যমে বয়স্ক কর্মীদের সহায়তা আরও বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন সব খাতের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে, তখন সরকার, নিয়োগকর্তা ও ইউনিয়নের দায়িত্ব হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অভিজ্ঞ কর্মীরা সক্রিয় ও কর্মযোগ্য থাকতে পারেন।
কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে
শ্রমিক সংগঠনের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বয়স যত বাড়ছে, সত্তরের পরেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তত বাড়ছে। এর পেছনে মূল কারণ মানসিক ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার ইচ্ছা। একই জরিপে উঠে এসেছে, বয়স্ক কর্মীরা কাজের ক্ষেত্রে পছন্দ ও নমনীয়তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
সরকারি সহায়তা ও কর্মসংস্থানের চিত্র
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পঁয়ষট্টি বছর ও তার বেশি বয়সী কর্মীদের কর্মসংস্থানের হার দুই হাজার পনেরো সালে যেখানে ছিল চব্বিশ দশমিক সাত শতাংশ, দুই হাজার পঁচিশ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে একত্রিশ দশমিক পাঁচ শতাংশে। এতে বোঝা যায়, কাজ করার আগ্রহ যেমন আছে, তেমনি সুযোগও বাড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে মজুরি সহায়তা ও বয়সবান্ধব কর্মস্থল গড়ে তুলতে নানা প্রণোদনা চালু রেখেছে।
হাসপাতালে বয়সবান্ধব পরিবেশ
তান টক সেং হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের প্রায় এক দশমাংশ কর্মী পঞ্চান্ন বছরের বেশি বয়সী। তারা অবসর ও পুনঃনিয়োগের বয়স বাড়িয়েছে এবং অধিকাংশ যোগ্য কর্মী এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জানান, অভিজ্ঞ কর্মীরা প্রতিষ্ঠানে স্থিতি ও যত্নের মান বাড়ান। প্রযুক্তি, নতুন ভূমিকা ও নমনীয় সময়সূচির মাধ্যমে কর্মীদের সক্ষম করে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















