১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা ফ্রিজড মানি ছাড় নিয়ে বিভ্রান্তি, আলোচনার আগেই নতুন শর্ত তুলল ইরান ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

ড্রোন হামলায় কাঁপল নাইজেরিয়া: সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি আক্রমণে নিহত বহু সেনা

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন ব্যবহার করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা। ভোরের আগে চালানো এই হামলায় একাধিক সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। চলতি সপ্তাহে একই এলাকায় এটি দ্বিতীয় বড় হামলার ঘটনা, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ভোরের আগে আকস্মিক আঘাত

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের আগে সাবন গারি সেনাঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। জঙ্গিরা প্রথমে ঘাঁটির নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ঘাঁটির একটি অংশ দখলে নেয়। একই সঙ্গে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয়, যা আগে এই এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি।

ড্রোন ব্যবহারে সহিংসতার নতুন মাত্রা

সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানি উবা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামিক স্টেট শাখার জঙ্গিরা সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে করে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ড্রোন হামলায় সেনাবাহিনীর একাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতিও ছিল।

পাল্টা অভিযানে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় সেনারা

হামলার পর দ্রুত অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়। তাদের সহায়তায় সেনাবাহিনী ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে এবং জঙ্গিদের হটিয়ে দেয়। বর্তমানে হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

নিহত ও আহতের তথ্য

সরকারিভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো না হলেও বলা হয়েছে, কয়েকজন সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী যৌথ টাস্কফোর্সের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, অন্তত নয়জন সেনা ও দুইজন টাস্কফোর্স সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ষোলজন আহত হয়েছেন।

বর্নোতে দীর্ঘদিনের সংঘাত

নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী চলতি বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। তবু বোকো হারাম ও তাদের ভাঙা অংশ পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামিক স্টেট সুযোগ বুঝে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, সীমান্তের দুর্বল নজরদারি এবং রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির ঘাটতি এই জঙ্গিদের জন্য বড় সহায়ক হয়ে উঠছে।

বর্নো রাজ্যই দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে চলা এই ইসলামপন্থী বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে সামরিক বহর ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা আরও বেড়েছে, যা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট

ড্রোন হামলায় কাঁপল নাইজেরিয়া: সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি আক্রমণে নিহত বহু সেনা

০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন ব্যবহার করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা। ভোরের আগে চালানো এই হামলায় একাধিক সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। চলতি সপ্তাহে একই এলাকায় এটি দ্বিতীয় বড় হামলার ঘটনা, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ভোরের আগে আকস্মিক আঘাত

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের আগে সাবন গারি সেনাঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। জঙ্গিরা প্রথমে ঘাঁটির নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ঘাঁটির একটি অংশ দখলে নেয়। একই সঙ্গে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয়, যা আগে এই এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি।

ড্রোন ব্যবহারে সহিংসতার নতুন মাত্রা

সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানি উবা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামিক স্টেট শাখার জঙ্গিরা সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে করে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ড্রোন হামলায় সেনাবাহিনীর একাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতিও ছিল।

পাল্টা অভিযানে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় সেনারা

হামলার পর দ্রুত অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়। তাদের সহায়তায় সেনাবাহিনী ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে এবং জঙ্গিদের হটিয়ে দেয়। বর্তমানে হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

নিহত ও আহতের তথ্য

সরকারিভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো না হলেও বলা হয়েছে, কয়েকজন সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী যৌথ টাস্কফোর্সের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, অন্তত নয়জন সেনা ও দুইজন টাস্কফোর্স সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ষোলজন আহত হয়েছেন।

বর্নোতে দীর্ঘদিনের সংঘাত

নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী চলতি বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। তবু বোকো হারাম ও তাদের ভাঙা অংশ পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামিক স্টেট সুযোগ বুঝে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, সীমান্তের দুর্বল নজরদারি এবং রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির ঘাটতি এই জঙ্গিদের জন্য বড় সহায়ক হয়ে উঠছে।

বর্নো রাজ্যই দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে চলা এই ইসলামপন্থী বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে সামরিক বহর ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা আরও বেড়েছে, যা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।