টাঙ্গাইল–৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (হরিণ প্রতীক)–এর পক্ষে ভোট চাইতে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। নিজ দল এবারের নির্বাচনে অংশ না নিলেও তিনি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানান এবং সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেন।
বাজার ও উঠান বৈঠকে গণসংযোগ
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বিকেল থেকে কাদের সিদ্দিকী সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে গণসংযোগ শুরু করেন। কাকড়াজান ইউনিয়নের বাগেরবাড়ি বাজার থেকে তার প্রচারণা শুরু হয়। এরপর তিনি হামিদপুর গণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও ইন্দারজানী বাজারে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন।

সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা
বাগেরবাড়ি বাজারে বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীর নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষ নিরাপদ থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে নন, তবে টাঙ্গাইল–৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরোধিতা করছেন।
অভিযোগ ও অতীত ঘটনার প্রসঙ্গ
কাদের সিদ্দিকীর অভিযোগ, অতীতে টাঙ্গাইল জেলার এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবীবকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আহমেদ আযম খানের অনুসারীরা জড়িত ছিলেন। তিনি আরও জানান, গত রমজানে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইফতার মাহফিলেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান। এ সময় তিনি ভোটারদের হরিণ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সন্ধ্যার পর আরও প্রচারণা
দলীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর কাদের সিদ্দিকী বড়চওনা ইউনিয়নের রাজনীতির মোড়, কালিয়া ইউনিয়নের বানিয়ারছিট, বড়চওনা বাজার ও কুতুবপুর কলার হাটে উঠান বৈঠকে অংশ নেন। তার সঙ্গে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুস সবুর খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীরসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগের ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে সখীপুর পৌরসভার বাসভবনে কাদের সিদ্দিকীর ডাকা একটি সমন্বয় সভা মাইকের শব্দের কারণে স্থগিত হয়। একই সময়ে কাছাকাছি স্থানে পৌর যুবদলের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল চলছিল। পরে কাদের সিদ্দিকী ওই দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। সেখানে বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থীকে কটাক্ষ করে কথা বলায় হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং তিনি স্থান ত্যাগ করেন। ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবারই প্রথমবারের মতো তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















