ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পথে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিনের দ্বিধা কাটিয়ে ফ্রান্স এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে রাজনৈতিক অনুমোদন আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ফ্রান্সের অবস্থান বদল, ঐক্যমতের পথে ইইউ
বুধবার ফ্রান্স স্পষ্টভাবে জানায়, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার উদ্যোগকে সমর্থন করবে। এর ফলে ইতালি ও জার্মানির সঙ্গে ফ্রান্সও এক কাতারে এল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতাশটি সদস্য দেশের সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন হলেও রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বিক্ষোভ দমন ও কঠোর বার্তার প্রয়োজন
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সহিংস অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে যে অসহনীয় দমননীতি চালানো হয়েছে, তার জবাব না দিলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। ইউরোপ মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া জরুরি।
বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব ও ভূমিকা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর শাসক ধর্মীয় ব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য গঠিত এই বাহিনী দেশটির অর্থনীতি ও সশস্ত্র বাহিনীর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচির দায়িত্বও তাদের হাতে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের পাশাপাশি বিদেশে তাদের কার্যক্রমও সন্ত্রাসী তৎপরতার সমান।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা
এর আগে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করেছিল, এই সিদ্ধান্ত নিলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এতে ইউরোপীয় নাগরিকদের মুক্তির আলোচনা এবং তেহরানে কূটনৈতিক উপস্থিতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে ফ্রান্সের দুই নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের মাত্রা সেই শঙ্কাকে ছাপিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে ইউরোপ
ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই অবস্থানে দাঁড়াবে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ভাষায়, কোনো সংগঠনের কাজ ও আচরণ যদি সন্ত্রাসের মতো হয়, তবে তাকে সেই নামেই চিহ্নিত করা উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















