০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
উদারতাবাদের ক্লান্তি ও পুনর্জাগরণের সন্ধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সদ্য ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের ইউরোপীয় পোশাক বাজারে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজার অংশীদারিত্বে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চুক্তির মূল দিকগুলো
প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার পর ভারত ও ইইউ এই বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কজনিত চাপ মোকাবিলার লক্ষ্যেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক পুরোপুরি বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে।

বর্তমানে ভারতীয় টেক্সটাইল পণ্যের ওপর প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। নতুন চুক্তির ফলে এই শুল্ক শূন্যে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার ওপর শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।

ঘোষণা ও কার্যকারিতা
মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ভারতের সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে চুক্তিটি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রভাব
জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের ধারণা অনুযায়ী এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ দখল করতে পারে। ইউরোপ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদার আওতায় ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। এর ফলে দেশটি চীনের পর ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো পণ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি, যার মূল্য প্রায় ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে গেছে।

ইউরোপের পোশাক বাজারে ভারতের অবস্থান
বর্তমানে ইউরোপীয় পোশাক বাজারে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই বাজারে ভারতের অবস্থান চীন ও তুরস্কের পর। এছাড়া কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ।

ভারতের সম্ভাব্য লাভ
জি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমানে যেখানে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে তা বেড়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তিনি বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের বিপুল রপ্তানির পেছনে শুল্কমুক্ত সুবিধাই ছিল মূল কারণ, যার মাধ্যমে দেশটি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, কম শুল্ক ও বড় পরিসরে ভারতীয় পোশাক ইইউ বাজারে প্রবেশ করলে বাংলাদেশের জন্য মূল্য প্রতিযোগিতা ও বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে ইউরোপে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদারতাবাদের ক্লান্তি ও পুনর্জাগরণের সন্ধান

ভারতের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে

০৮:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সদ্য ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের ইউরোপীয় পোশাক বাজারে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজার অংশীদারিত্বে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চুক্তির মূল দিকগুলো
প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার পর ভারত ও ইইউ এই বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কজনিত চাপ মোকাবিলার লক্ষ্যেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত ২৭টি দেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক পুরোপুরি বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে।

বর্তমানে ভারতীয় টেক্সটাইল পণ্যের ওপর প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। নতুন চুক্তির ফলে এই শুল্ক শূন্যে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার ওপর শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।

ঘোষণা ও কার্যকারিতা
মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ভারতের সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে চুক্তিটি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রভাব
জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকারের ধারণা অনুযায়ী এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ দখল করতে পারে। ইউরোপ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদার আওতায় ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। এর ফলে দেশটি চীনের পর ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো পণ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি, যার মূল্য প্রায় ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে গেছে।

ইউরোপের পোশাক বাজারে ভারতের অবস্থান
বর্তমানে ইউরোপীয় পোশাক বাজারে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই বাজারে ভারতের অবস্থান চীন ও তুরস্কের পর। এছাড়া কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ।

ভারতের সম্ভাব্য লাভ
জি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, এই চুক্তির ফলে ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমানে যেখানে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে তা বেড়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তিনি বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের বিপুল রপ্তানির পেছনে শুল্কমুক্ত সুবিধাই ছিল মূল কারণ, যার মাধ্যমে দেশটি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, কম শুল্ক ও বড় পরিসরে ভারতীয় পোশাক ইইউ বাজারে প্রবেশ করলে বাংলাদেশের জন্য মূল্য প্রতিযোগিতা ও বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে ইউরোপে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।