০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
জার্মানিতে সিরীয় শরণার্থীদের ফেরানো কি সম্ভব, নাকি কেবলই রাজনৈতিক কল্পনা পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে অস্থিরতা, ভারতের সতর্ক বার্তা—নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা ইরানের জমে থাকা অর্থ ছাড়ে সমঝোতার ইঙ্গিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকারে নতুন ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির, যুদ্ধবিরতির পরও কাটছে না সংকট কোভিডের পর হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: দীর্ঘ অপেক্ষা আর বাড়তি মৃত্যুর দুষ্টচক্রে বিশ্ব স্বাস্থ্যখাত ভোটের হার বাড়লেও কন্নুরে সিপিএমের ঘাঁটিতে কিছুটা কমেছে অংশগ্রহণ এআইয়ের নতুন আতঙ্ক: ‘মিথোস’ কি সাইবার দুনিয়ায় ঝড় তুলতে যাচ্ছে? ভারতের সংবিধানের নকশি করা শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি ভোটার তালিকা থেকে বাদ, প্রশ্নের মুখে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন জাপানের গাড়ি শিল্পে টানাপোড়েন: টিকে থাকতে চাই নতুন সাহসী কৌশল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ছায়া ফেলছে নির্বাচনী উত্তেজনা

যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘পরিণত সম্পর্ক’ গড়ার বার্তা স্টারমারের

বেইজিং সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার অঙ্গীকার করেছেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছে। স্টারমার বলেছেন, সময় এসেছে চীনের সঙ্গে একটি পরিণত ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার, যেখানে সুযোগের পাশাপাশি মতপার্থক্য নিয়েও খোলামেলা আলোচনা থাকবে।

দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বেইজিং। স্টারমার ও শির মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ও উঠে আসে। ফুটবল ও সাহিত্য নিয়েও তাঁদের আলাপ হয়, যা আলোচনাকে করে তোলে সৌহার্দ্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক জোর ও বিনিয়োগের বার্তা
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন স্টারমার। সফরের সময় যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা এবং কিছু শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এসব পদক্ষেপকে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন স্টারমার।

সমালোচনা ও সতর্কতার সুর
চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে স্টারমার বলেছেন, সম্পর্ক উন্নয়ন মানে নীরবতা নয়। বরং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে মতভেদ নিয়েও স্পষ্ট ও কার্যকর আলোচনা সম্ভব হবে। বৈঠকে তিনি হংকংয়ের এক ব্রিটিশ নাগরিকের মামলার প্রসঙ্গও তুলেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সফর
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অনিশ্চিত অবস্থান ও বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে নতুন হিসাবনিকাশ চলছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতকে কৌশলগতভাবে দেখছে লন্ডন। স্টারমারের সফরকে সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও অবৈধ মানবপাচার দমন
বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতার কথাও এসেছে আলোচনায়। অবৈধ অভিবাসী পাচার রোধে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছোট নৌকায় মানবপাচারে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
স্টারমার বৈঠককে উষ্ণ ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এখন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংও অতীতের উত্থান-পতন পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও চীন নতুন সমীকরণ খুঁজছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে সিরীয় শরণার্থীদের ফেরানো কি সম্ভব, নাকি কেবলই রাজনৈতিক কল্পনা

যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ‘পরিণত সম্পর্ক’ গড়ার বার্তা স্টারমারের

১০:০০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বেইজিং সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার অঙ্গীকার করেছেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছে। স্টারমার বলেছেন, সময় এসেছে চীনের সঙ্গে একটি পরিণত ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার, যেখানে সুযোগের পাশাপাশি মতপার্থক্য নিয়েও খোলামেলা আলোচনা থাকবে।

দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বেইজিং। স্টারমার ও শির মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ও উঠে আসে। ফুটবল ও সাহিত্য নিয়েও তাঁদের আলাপ হয়, যা আলোচনাকে করে তোলে সৌহার্দ্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক জোর ও বিনিয়োগের বার্তা
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন স্টারমার। সফরের সময় যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা এবং কিছু শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এসব পদক্ষেপকে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন স্টারমার।

সমালোচনা ও সতর্কতার সুর
চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে স্টারমার বলেছেন, সম্পর্ক উন্নয়ন মানে নীরবতা নয়। বরং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে মতভেদ নিয়েও স্পষ্ট ও কার্যকর আলোচনা সম্ভব হবে। বৈঠকে তিনি হংকংয়ের এক ব্রিটিশ নাগরিকের মামলার প্রসঙ্গও তুলেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সফর
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অনিশ্চিত অবস্থান ও বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে নতুন হিসাবনিকাশ চলছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতকে কৌশলগতভাবে দেখছে লন্ডন। স্টারমারের সফরকে সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও অবৈধ মানবপাচার দমন
বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতার কথাও এসেছে আলোচনায়। অবৈধ অভিবাসী পাচার রোধে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছোট নৌকায় মানবপাচারে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
স্টারমার বৈঠককে উষ্ণ ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এখন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংও অতীতের উত্থান-পতন পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও চীন নতুন সমীকরণ খুঁজছে।