মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ঘনিয়ে উঠছে যুদ্ধের আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়া সিদ্ধান্তের জবাবে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ইরানি সেনাপ্রধান।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
ইরানের সেনাপ্রধান বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে তার জবাব হবে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক। তার এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইতোমধ্যে একটি মার্কিন নৌবহর পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। গণবিক্ষোভ দমনে সহিংস ভূমিকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। ইউরোপীয় নেতাদের মতে, নিজ দেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রক্তাক্ত ভাবে দমন করলে তাকে সন্ত্রাসী আচরণ হিসেবেই দেখা উচিত।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাষ্ট্রের প্রধান কৌঁসুলি এবং কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন ও রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবাধিকার রক্ষকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া
ইরান এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপের পরিণতি হবে ধ্বংসাত্মক। তেহরানের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা একদিকে সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিলেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করছেন না।

আঞ্চলিক উদ্বেগ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের মতে, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে গোটা অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আবারও যুদ্ধ শুরু করা ভুল হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত ইরান।
রাশিয়া ও মিশর সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে এবং এর ফলাফল হবে বিপজ্জনক।

গাজায় মানবিক সংকটের ছায়া
এই উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, খাদ্য, পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের অভাবে শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। আঞ্চলিক সংঘাত বেড়ে গেলে এই মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















