নির্বাচনি সভায় বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ভোটারদের উদ্দেশে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১১ তারিখ বিকাল থেকে ১২ তারিখ বিকাল পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সতর্কভাবে পাহারা দিতে হবে, যেন একটি ভোটও নষ্ট বা চুরি না হয়। রূপক অর্থে তিনি বলেন, “আমার একটা হাঁসও যেন কোনও শিয়ালের বাচ্চা চুরি করতে না পারে।”
অতীত অভিজ্ঞতার উল্লেখ
রুমিন ফারহানা স্মরণ করিয়ে দেন, ভোটারদের বাবা-চাচাদের ভোটে একসময় তার বাবা অলি আহাদ নির্বাচিত হলেও তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কারসাজির মাধ্যমে তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
সভার সময় ও স্থান
এই বক্তব্য তিনি দেন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায়।
উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেত্রী হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
“আমি কথা নয়, কাজ করেছি”
রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বড় বড় হুমকি বা ফাঁকা বক্তব্যে বিশ্বাসী নন। বরং তিনি কাজের মাধ্যমে রাজনীতি করেছেন।
তিনি বলেন, এই এলাকা তার পারিবারিক শিকড়ের জায়গা—এখানেই তার বাবা-দাদার ভিটা ও কবর। এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি মানুষকে নিজের পাশে চান। যদি এটাকে অপরাধ বলা হয়, তবে জনগণই তার বিচার করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ও সতর্ক বার্তা
রুমিন ফারহানা জানান, তিনি বিশ্বাস করেন নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কোনো ধরনের কারচুপি না হয়।
তিনি আরও বলেন, এই আসনের দিকে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে। তাই কেউ যদি ব্যালট জালিয়াতির চিন্তা করে, তাহলে ভোটাররাই তার উপযুক্ত জবাব দেবেন।
হাঁস প্রতীক নিয়ে বক্তব্য
তিনি হাঁস প্রতীককে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সততা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া পেলে কোনো শক্তিই হাঁস প্রতীককে হারাতে পারবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মামলা, ভয়ভীতি ও প্রশাসন প্রসঙ্গে
একটি মামলা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে রুমিন বলেন, যারা এসব বলে শেষে গা ঢাকা দেয়, তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তার একজন ভোটারের ক্ষতি করার আগে তাকে আঘাত করতে হবে। প্রশাসনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং কাউকে ভুয়া মামলায় হয়রানি করা হবে না—এমন আশ্বাস দেন তিনি।
শেষ বক্তব্য: রায় দেবে জনগণ
তিনি বলেন, এখনই বলা যায় না কে সরকার গঠন করবে। তাই অহেতুক বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায় কী হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















