চীন আগামী পাঁচ বছরে মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার ইঙ্গিত স্পষ্ট হলো। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পৃথিবীর শক্তি সংকটের বিকল্প হিসেবে মহাকাশে সৌরশক্তিনির্ভর বিশাল ডাটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায় বেইজিং।
মহাকাশে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর লক্ষ্য
চীনের প্রধান মহাকাশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় গিগাওয়াট ক্ষমতার মহাকাশভিত্তিক ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো নির্মাণের অঙ্গীকার করেছে। এই ব্যবস্থায় ক্লাউড, প্রান্তিক কম্পিউটিং ও যন্ত্রভিত্তিক সক্ষমতা একীভূত হবে, যাতে পৃথিবী থেকে পাঠানো তথ্য মহাকাশেই প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। এর ফলে ডাটা সংরক্ষণ, গণনাশক্তি ও তথ্য পরিবহনের সমন্বিত ব্যবহার সম্ভব হবে।
মহাকাশে সৌরশক্তি ও এআইয়ের সংযোগ
চীনের নীতিগত নথিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল শক্তি চাহিদা ভবিষ্যতে কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়া হবে। সৌরশক্তিচালিত গিগাওয়াট কেন্দ্র ব্যবহার করে দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে শিল্পমাত্রার একটি মহাকাশ ক্লাউড গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এই উদ্যোগকে দেশটির পরবর্তী পনেরো বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ মহাকাশ প্রতিষ্ঠানও মহাকাশে সৌরশক্তিনির্ভর এআই ডাটা সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, কক্ষপথে সৌরশক্তি উৎপাদন পৃথিবীর তুলনায় বহু গুণ বেশি কার্যকর। এই বাস্তবতায় চীনের নতুন ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে মহাকাশে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মহাকাশ পর্যটনেও বড় লক্ষ্য
ডাটা সেন্টারের পাশাপাশি চীন উপকক্ষপথ ও কক্ষপথভিত্তিক মহাকাশ পর্যটন ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এবং পরে বাণিজ্যিক পর্যটন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মহাকাশ অনুসন্ধানকে বেসামরিক বিমান চলাচলের মতো লাভজনক খাতে রূপ দেওয়ার কৌশল স্পষ্ট।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটেই বড় চ্যালেঞ্জ
তবে চীনের সামনে বড় বাধা হয়ে আছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকায় নিম্ন কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। যদিও গত বছর চীন রেকর্ডসংখ্যক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে, তবু খরচ কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট সফল করাই এখন মূল লক্ষ্য।
গভীর মহাকাশে মানবসম্পদ গড়ার প্রস্তুতি
চীন সম্প্রতি আন্তঃনাক্ষত্রিক ন্যাভিগেশন বিষয়ক একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছে। এর উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী তৈরি করা, যারা গভীর মহাকাশ অনুসন্ধান ও নতুন প্রপালশন প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, আগামী এক থেকে দুই দশক চীনের জন্য এই খাতে দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ এনে দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















