মস্কো সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ককে আগামী দিনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনীতির নতুন পর্যায়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন উভয় নেতা।
ক্রেমলিনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
বৃহস্পতিবার মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শেখ মোহাম্মদ ও পুতিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। রাশিয়া সফরের শুরুতেই শেখ মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সাল রাশিয়ার জন্য অগ্রগতি ও উন্নয়নের বছর হবে এবং একই সঙ্গে আমিরাত–রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, মহাকাশ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পারস্পরিক আস্থা ও পঞ্চাশ বছরের বন্ধন
শেখ মোহাম্মদ বলেন, অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আমিরাত–রাশিয়া সম্পর্ক গভীর আস্থা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উন্নয়নমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমিরাতের অঙ্গীকারের কথা ও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করলেই টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক সংকট নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ও মতবিনিময় হয়। দুই নেতা ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য দ্বি রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের পথে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। শেখ মোহাম্মদ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে আমিরাতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
অর্থনৈতিক চুক্তিতে নতুন গতি
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বাক্ষরিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তির কথা উল্লেখ করেন শেখ মোহাম্মদ। একটি হলো গত আগস্টে আমিরাত ও রাশিয়ার মধ্যে সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি এবং অন্যটি জুনে আমিরাত ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউক্রেন সংকটে মধ্যস্থতায় আমিরাতের ভূমিকা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বন্দিবিনিময়ে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান শেখ মোহাম্মদ। তিনি এই মানবিক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত বলে জানান এবং ভবিষ্যতেও সব ইতিবাচক প্রচেষ্টায় সহায়তার প্রস্তুতির কথা বলেন। পুতিনও ইউক্রেন সংকট সমাধানে সংলাপের পথ খুঁজতে আমিরাতের উদ্যোগ ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সম্মাননা ও বিদায়
বৈঠক শেষে পুতিন শেখ মোহাম্মদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। সফরকালে ক্রেমলিনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়, বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত। সফর শেষে মস্কো ত্যাগের সময় রুশ সামরিক জেটের সম্মানসূচক এসকর্ট ও দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















