শারজাহর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, বিশেষ করে ম্লেইহা অঞ্চল, প্রাচীন আরব ও গ্রিসের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের শক্ত প্রমাণ দিচ্ছে। শারজাহ প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ঈসা ইউসুফ জানিয়েছেন, এই সম্পর্কের শিকড় ব্রোঞ্জ যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দুই সভ্যতাকে একই ঐতিহাসিক সময়রেখায় যুক্ত করে।
ব্রোঞ্জ যুগ থেকে হেলেনীয় যুগের সংযোগ
শারজাহতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসবের উদ্বোধনী দিনে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঈসা ইউসুফ বলেন, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার থেকে তেরশ সময়কাল ছিল ব্রোঞ্জ যুগ, যখন ধাতব অস্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যবহার শুরু হয় এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এই সময়েই শারজাহ ও গ্রিসের মধ্যে সমান্তরাল বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টপূর্ব তিনশ তেইশ সালে শুরু হওয়া হেলেনীয় যুগে এই সংযোগ আরও বিস্তৃত হয়। ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরকে ঘিরে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে পণ্য ও সংস্কৃতির আদানপ্রদান গড়ে ওঠে।
![]()
প্রাচীন বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ম্লেইহা
ঈসা ইউসুফের ভাষায়, ম্লেইহা ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষভাগে এটি প্রাচীন ওমান রাজ্যের রাজধানীও হতে পারে। যদিও অঞ্চলটি সরাসরি গ্রিক শাসনের অধীনে ছিল না, তবে বাণিজ্য ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এটি গ্রিক অর্থনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল।
মুদ্রা ও পাত্রে সাংস্কৃতিক প্রমাণ
প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া মুদ্রা ও পাত্রে এই সম্পর্কের স্পষ্ট ছাপ মিলেছে। গ্রিক শাসক সেলেউকাসের সময়কার মুদ্রা এবং এথেন্স ও রোডস দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ পাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তৃতীয় শতকের একটি কালো চকচকে পাত্রকে ম্লেইহায় পাওয়া প্রথম ধরনের পালিশ করা পাত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পাত্রে গ্রিক ভাষায় লিখিত তত্ত্বাবধায়কদের নাম ও সরকারি সিল রয়েছে, যা ওজন ও পরিমাপের মান নিশ্চিত করত।
![]()
গ্রিক নথির সঙ্গে মিল
ম্লেইহা থেকে উদ্ধার করা পাত্রের হাতলে থাকা নামগুলো গ্রিসের সংরক্ষিত নথিতেও পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে নিদর্শনগুলোর সঠিক সময়কাল নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। গ্রিসে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে পাত্র সমাহিত করার যে রীতি ছিল, ম্লেইহাতেও একই ধরনের কবর প্রথার প্রমাণ মিলেছে।
স্থাপত্য ও সমাধির মিল
প্রাচীন দুর্গ ও সমাধির নকশায়ও মিল লক্ষ্য করা যায়। ম্লেইহার দুর্গগুলোর সঙ্গে লেভান্ত অঞ্চলের কিছু দুর্গের স্থাপত্যগত সাদৃশ্য রয়েছে, যেগুলো একসময় গ্রিক শাসনের অধীনে ছিল। সংশ্লিষ্ট সমাধির অলঙ্করণ পরে পেত্রা ও মাদাইন সালেহে পাওয়া নকশারও আগের বলে গবেষকরা মনে করছেন।

লোহার তলোয়ার ও উটযুদ্ধের ইতিহাস
খননে পাওয়া চুয়ান্নটি লোহার তলোয়ার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘ, কিছু তলোয়ার নব্বই সেন্টিমিটারেরও বেশি। হাতলের নকশায় ঘোড়ার মাথা বা সামুদ্রিক ঘোড়ার আদল দেখা যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই দীর্ঘ তলোয়ার উটে চড়ে যুদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হতো। প্রাচীন নথিতে উল্লেখ রয়েছে, আরব উটযোদ্ধারা গ্রিক সেনাবাহিনীতে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতেন এবং মৃত্যুর পর অস্ত্রসহ সমাহিত হতেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















