০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, মাইন অপসারণে সমস্যায় ইরান শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু, উত্তেজনার মাঝেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ তেল আছে শুধু সংসদে, মাঠে নেই—জ্বালানি সংকটে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিপদের শঙ্কা আইপিএলে টানা হার থামাতে মরিয়া চেন্নাই, দিল্লির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চীন-পাকিস্তান কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতিতে বড় ভূমিকা বেইজিংয়ের পুতিনের প্রচারণার জালে রাশিয়া: কীভাবে বিভ্রান্তির রাজনীতি মানুষের চিন্তাকে বদলে দিচ্ছে বুরকিনা ফাসোতে যুদ্ধের নামে রক্তপাত, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

গাজা নিরস্ত্রীকরণে আন্তর্জাতিক অস্ত্র কিনে নেওয়ার কর্মসূচি, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা

গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জানানো হয়েছে, গাজা নিরস্ত্রীকরণের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে অস্ত্র কিনে নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

অস্ত্র ছাড়লেই সেনা প্রত্যাহার

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজার প্রায় অর্ধেক অংশে হামাসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গাজা শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারবে না।

Gaza demilitarization to include internationally funded buyback program, U.S.  says

জাতিসংঘে কড়া বার্তা

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, গাজায় সব ধরনের সামরিক অবকাঠামো, সুড়ঙ্গ এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা হবে এবং আর পুনর্নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অস্ত্র স্থায়ীভাবে অকার্যকর করা হবে, যা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়িত অস্ত্র কিনে নেওয়ার কর্মসূচি থাকবে। একই সঙ্গে সাবেক যোদ্ধাদের সমাজে পুনর্গঠনের ব্যবস্থাও থাকবে।

হামাসের অবস্থান

হামাস সম্প্রতি অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেলেও সংগঠনটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট ও বিস্তারিত প্রস্তাব দেয়নি। ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে হামাসের জন্য কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

US tells UN: Gaza demilitarization to include internationally funded  buyback program - BusinessWorld Online

ইসরায়েলের দাবি

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন দাবি করেন, হামাস এখনো বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। তাঁর ভাষায়, সংগঠনটির হাতে হাজার হাজার রকেট, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ষাট হাজার স্বয়ংক্রিয় রাইফেল রয়েছে। এসব অস্ত্র শুধু ইসরায়েলের বিরুদ্ধেই নয়, হামাসবিরোধী গাজাবাসীর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘের সমালোচনা করলো ইসরায়েল

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী

গত নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ গাজাকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ড গঠনের অনুমোদন দেয়, যার মেয়াদ দুই হাজার সাতাশ সাল পর্যন্ত। এই বোর্ড গাজার পুনর্গঠন ও অর্থায়নের কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই বাহিনী গাজায় নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার সম্ভব হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার যুদ্ধবিরতির জামিনদার হিসেবে যুক্ত থাকবে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন

রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত থাকে। তাদের অভিযোগ, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জাতিসংঘের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি। তবুও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় গাজায় নতুন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি, তবে সমাধান এখনো দূরে

গাজা নিরস্ত্রীকরণে আন্তর্জাতিক অস্ত্র কিনে নেওয়ার কর্মসূচি, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা

০৭:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জানানো হয়েছে, গাজা নিরস্ত্রীকরণের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে অস্ত্র কিনে নেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবে আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

অস্ত্র ছাড়লেই সেনা প্রত্যাহার

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজার প্রায় অর্ধেক অংশে হামাসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গাজা শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারবে না।

Gaza demilitarization to include internationally funded buyback program, U.S.  says

জাতিসংঘে কড়া বার্তা

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, গাজায় সব ধরনের সামরিক অবকাঠামো, সুড়ঙ্গ এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা হবে এবং আর পুনর্নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অস্ত্র স্থায়ীভাবে অকার্যকর করা হবে, যা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়িত অস্ত্র কিনে নেওয়ার কর্মসূচি থাকবে। একই সঙ্গে সাবেক যোদ্ধাদের সমাজে পুনর্গঠনের ব্যবস্থাও থাকবে।

হামাসের অবস্থান

হামাস সম্প্রতি অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেলেও সংগঠনটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট ও বিস্তারিত প্রস্তাব দেয়নি। ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে হামাসের জন্য কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে।

US tells UN: Gaza demilitarization to include internationally funded  buyback program - BusinessWorld Online

ইসরায়েলের দাবি

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন দাবি করেন, হামাস এখনো বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। তাঁর ভাষায়, সংগঠনটির হাতে হাজার হাজার রকেট, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ষাট হাজার স্বয়ংক্রিয় রাইফেল রয়েছে। এসব অস্ত্র শুধু ইসরায়েলের বিরুদ্ধেই নয়, হামাসবিরোধী গাজাবাসীর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘের সমালোচনা করলো ইসরায়েল

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী

গত নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ গাজাকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ড গঠনের অনুমোদন দেয়, যার মেয়াদ দুই হাজার সাতাশ সাল পর্যন্ত। এই বোর্ড গাজার পুনর্গঠন ও অর্থায়নের কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই বাহিনী গাজায় নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার সম্ভব হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার যুদ্ধবিরতির জামিনদার হিসেবে যুক্ত থাকবে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন

রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত থাকে। তাদের অভিযোগ, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জাতিসংঘের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি। তবুও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় গাজায় নতুন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।