দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার লক্ষ্যে ফিলিপাইনের সেবু শহরে বৈঠকে বসেছেন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই রিট্রিট বৈঠকের মাধ্যমে চলতি বছরের জন্য জোটের অগ্রাধিকার ও কৌশল নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সংকটের চাপে বৈঠক
ফিলিপাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত বিরোধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ইস্যু আসিয়ান অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ফিলিপাইনের সতর্ক বার্তা
উদ্বোধনী বক্তব্যে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাসারো বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত। তাঁর ভাষায়, এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখা এবং সংযম, সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের নীতিতে আসিয়ানের অটল থাকা জরুরি।
তিনি আরও জানান, সমুদ্রপথে উত্তেজনা, দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং অমীমাংসিত সীমান্ত ও মানবিক সংকট এখনো পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে। এই বৈঠক আসিয়ান দেশগুলোর জন্য নিজেদের অগ্রাধিকার নতুন করে মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়ানমার ইস্যুতে সংলাপের চেষ্টা
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ব্যাপক বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখনো অবসানের পথে নয়। এই সংকট মোকাবিলায় ফিলিপাইন সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরোধীদের নিয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করে, যার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক আলোচনা ও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া।
দক্ষিণ চীন সাগরে আচরণবিধির লক্ষ্য
চলতি বছরে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি আচরণবিধি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে ম্যানিলা। গত তিন বছরে এই জলসীমা ঘিরে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আসিয়ান দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















