তাইপে, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬: বৈশ্বিক মেমোরি চিপ সংকট ও কাঁচামালের বাড়তি দামের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে আইফোন উৎপাদন ও বিপণন কৌশলে বড় পরিবর্তনে যাচ্ছে অ্যাপল। নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে অ্যাপল তাদের সবচেয়ে প্রিমিয়াম তিনটি নতুন আইফোন মডেলের উৎপাদন ও সরবরাহে অগ্রাধিকার দেবে। এর বিপরীতে, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন মডেলের বাজারজাতকরণ পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে নেওয়া হচ্ছে।
প্রিমিয়াম মডেলে নতুন ফোকাস
অ্যাপলের পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবারের মতো একটি ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হবে। এর পাশাপাশি বাজারে আসবে আরও দুটি নন-ফোল্ডিং প্রিমিয়াম মডেল, যেগুলোতে উন্নত ক্যামেরা ও বড় ডিসপ্লে থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮ মডেলের চালান শুরু হবে ২০২৭ সালের প্রথম ভাগে।
মুনাফা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশল
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রিমিয়াম পণ্য থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব ও মুনাফা অর্জন। মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপল বেশি লাভজনক মডেলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের গণউৎপাদনে সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোও বড় কারণ। নতুন শিল্পপ্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহারের কারণে উৎপাদনের মান নিশ্চিত করতে বাড়তি সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিপণন পরিকল্পনা
২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রিমিয়াম মডেল এবং ২০২৭ সালের শুরুতে তুলনামূলক সাধারণ মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা অ্যাপলকে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেবে। একই সঙ্গে এটি একটি স্পষ্ট ও আলাদা বিপণন কৌশল গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আইফোন সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী জানিয়েছেন, চলতি বছরে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ, আর বিপণন কৌশলের পরিবর্তনও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

নতুন আইফোন লাইনআপের চিত্র
অ্যাপলের পাইপলাইনে বর্তমানে অন্তত পাঁচটি নতুন আইফোন মডেল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুনর্নকশা করা আইফোন এয়ার, যা হবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন, একটি স্ট্যান্ডার্ড মডেল এবং তিনটি প্রিমিয়াম সংস্করণ। তবে আইফোন এয়ারের সরবরাহ কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং চলতি বছর এটি বাজারে আসার সম্ভাবনাও কম।
বৈশ্বিক মেমোরি সংকটের প্রভাব
বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্প, বিশেষ করে স্মার্টফোন খাত, মেমোরি চিপ ও কাঁচামালের ঘাটতির কারণে চাপে রয়েছে। এরই মধ্যে শাওমি, অপো, ভিভো ও ট্রানশনের মতো কয়েকটি চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের জন্য তাদের সরবরাহ পূর্বাভাস কমিয়েছে।
অ্যাপলের বাড়তি চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হলেও অ্যাপলও সরবরাহ সংকটের মুখে। তাদের কিছু সরবরাহকারী এখন এনভিডিয়া, গুগল ও অ্যামাজনের মতো দ্রুত সম্প্রসারিত এআই কোম্পানিগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি আয়সংক্রান্ত এক কল-এ অ্যাপল সতর্ক করেছে যে, আইফোন সরবরাহে সীমাবদ্ধতা জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া, এআই সার্ভার সিস্টেমে ব্যবহারের কারণে আইফোনের চিপ সাবস্ট্রেটের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের গ্লাস ক্লথ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক
শিগগিরই ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে নিয়মিত সরবরাহকারী বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে অ্যাপল। এবার বৈঠকের পরিসর বাড়িয়ে আরও বেশি উপাদান ও কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে বছরের পুরো সময়জুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা যায়।
শুধু স্মার্টফোন নয়
২০২৬ সালের জন্য উৎপাদন পরিকল্পনা বদলাচ্ছে শুধু স্মার্টফোন নির্মাতারাই নয়। অনেক পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও সীমিত মেমোরি চিপের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বাড়তি খরচ সামাল দিতে তাদের মডেল নকশা ও পণ্য তালিকা নতুন করে সাজাচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা বেশি খরচ ও সরবরাহ জটিলতার কারণে এন্ট্রি-লেভেল ফোনের উদ্বোধন বাতিল করেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে অ্যাপল কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















