০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা

শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ভাবছে ভারত সরকার

ভারতে শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা ভাবছে সরকার। দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তরুণদের অনলাইন আসক্তি পড়াশোনা ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উদ্বেগের কথা
ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি আনন্দ নাগেশ্বরন উল্লেখ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখতে আগ্রাসী কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পনেরো থেকে চব্বিশ বছর বয়সীদের লক্ষ্য করে এমন অ্যালগরিদম তৈরি করা হচ্ছে, যা বাধ্যতামূলক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কম বয়সীরা ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার সীমা বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং বয়স যাচাই ও বয়স উপযোগী ব্যবস্থাপনার দায় প্ল্যাটফর্মগুলোকেই নিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে একই ধরনের উদ্যোগ
ভারতের এই ভাবনা আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গেও মিলছে। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে ষোল বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। ফ্রান্স পনেরো বছরের নিচে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও গ্রিস বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে।

ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় এসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় বাজার ভারত
বিশ্বের অন্যতম বড় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ ভারত। প্রায় পঁচাত্তর কোটি স্মার্টফোন এবং একশ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। বর্তমানে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নেই।

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যে বলা হয়েছে, সস্তা ডেটা প্যাকের কারণে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় অংশ নিয়মিত এসব অ্যাপে সময় কাটাচ্ছে।

ডিজিটাল আসক্তি ও পড়াশোনার ক্ষতি
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, অতিরিক্ত ডিজিটাল ব্যবহার পড়াশোনার ফলাফল খারাপ করছে, মনোযোগ কমাচ্ছে এবং ঘুমের ঘাটতি তৈরি করছে। কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীলতার ওপর।

তিনি পরিবারগুলোকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পর্দার সময় সীমিত রাখা, নির্দিষ্ট সময় ডিভাইসমুক্ত থাকা এবং অফলাইনে একসঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য পর্যায়ে উদ্যোগের ইঙ্গিত
ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে শিশুদের পর্দা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গোয়া ও অন্ধ্র প্রদেশ অস্ট্রেলিয়ার আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করছে। অন্ধ্র প্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিশুদের অবিরাম ব্যবহারে মনোযোগ ও শিক্ষার ক্ষতি হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, শিশুদের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য

শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ভাবছে ভারত সরকার

০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতে শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা ভাবছে সরকার। দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তরুণদের অনলাইন আসক্তি পড়াশোনা ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উদ্বেগের কথা
ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি আনন্দ নাগেশ্বরন উল্লেখ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখতে আগ্রাসী কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পনেরো থেকে চব্বিশ বছর বয়সীদের লক্ষ্য করে এমন অ্যালগরিদম তৈরি করা হচ্ছে, যা বাধ্যতামূলক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কম বয়সীরা ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার সীমা বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং বয়স যাচাই ও বয়স উপযোগী ব্যবস্থাপনার দায় প্ল্যাটফর্মগুলোকেই নিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে একই ধরনের উদ্যোগ
ভারতের এই ভাবনা আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গেও মিলছে। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে ষোল বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। ফ্রান্স পনেরো বছরের নিচে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও গ্রিস বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে।

ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় এসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় বাজার ভারত
বিশ্বের অন্যতম বড় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ ভারত। প্রায় পঁচাত্তর কোটি স্মার্টফোন এবং একশ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। বর্তমানে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নেই।

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যে বলা হয়েছে, সস্তা ডেটা প্যাকের কারণে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় অংশ নিয়মিত এসব অ্যাপে সময় কাটাচ্ছে।

ডিজিটাল আসক্তি ও পড়াশোনার ক্ষতি
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, অতিরিক্ত ডিজিটাল ব্যবহার পড়াশোনার ফলাফল খারাপ করছে, মনোযোগ কমাচ্ছে এবং ঘুমের ঘাটতি তৈরি করছে। কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীলতার ওপর।

তিনি পরিবারগুলোকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পর্দার সময় সীমিত রাখা, নির্দিষ্ট সময় ডিভাইসমুক্ত থাকা এবং অফলাইনে একসঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য পর্যায়ে উদ্যোগের ইঙ্গিত
ভারতের কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে শিশুদের পর্দা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গোয়া ও অন্ধ্র প্রদেশ অস্ট্রেলিয়ার আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করছে। অন্ধ্র প্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিশুদের অবিরাম ব্যবহারে মনোযোগ ও শিক্ষার ক্ষতি হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, শিশুদের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ সময়ের দাবি।