ঐতিহাসিক ঊর্ধ্বগতির পর দুবাইয়ের সোনার বাজারে শুক্রবার সামান্য মূল্য সংশোধন দেখা গেছে। স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে তীব্র দোলাচলের পর দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে সোনার দর এখনো উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে।
দুবাইয়ের সোনার সর্বশেষ দর
শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে দুবাই বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৬২৮ দশমিক ২৫ দিরহামে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের ৬২৯ দশমিক ২৫ দিরহাম থেকে সামান্য কম। একই সময়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রতি গ্রাম ৫৮১ দশমিক ৭৫ দিরহাম, যেখানে আগের দিন ছিল ৫৮২ দশমিক ৭৫ দিরহাম। টানা দ্রুত ওঠানামার পর বাজারে এক ধরনের বিরতি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে বড় পতন
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধস নেমেছে। এক আউন্স সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবার ৫ হাজার ডলার স্পর্শ করার পরই ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। একপর্যায়ে দাম ৫ হাজার ১১১ দশমিক শূন্য ৭ ডলার পর্যন্ত উঠলেও পরে বিক্রির চাপ বাড়ে এবং পুরো ধাতু বাজারেই এর প্রভাব পড়ে। রুপার দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়, পাশাপাশি তামা ও নিকেলের দামও নিম্নমুখী হয়।
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় চাপ
শুক্রবার সোনার দামের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে দাম প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যদিও দিনের শুরুতে কিছুটা বাড়তির দিকেও গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়াই এর অন্যতম কারণ। ডলারের সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

ফেড নিয়ে জল্পনায় বাজারে অনিশ্চয়তা
বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্ব নিয়ে। খবর রয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিতে পারেন। ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি বিষয়ে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, তিনি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী তার মনোনয়নের ঘোষণা দেবেন।
এই সম্ভাব্য পরিবর্তন এমন এক সময়ে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, যখন ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও নীতিগত অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা আগেই উদ্বিগ্ন।
দীর্ঘমেয়াদে সোনার পক্ষে পরিবেশ
সবকিছুর পরও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারের ভিত্তি এখনো শক্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি, কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সতর্কতা এবং ইউরোপ, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে নতুন শুল্কের ইঙ্গিত বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এই ধরনের নীতিগত ঝুঁকির সময়ে সোনা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আকর্ষণ ধরে রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অনিশ্চয়তা কম নয়। সম্ভাব্য সরকারি অচলাবস্থা শেষ মুহূর্তে এড়ানো গেলেও অভিবাসন অভিযানে সীমা আরোপ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদে দামে ওঠানামা থাকলেও অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার গুরুত্ব কমবে না বলেই ধারণা বাজার সংশ্লিষ্টদের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















