২০২৬ সালের শুরুতে সুস্থ থাকার ইচ্ছা অনেকেরই আছে, তবে আগের মতো কঠোর নিয়ম আর অতিরিক্ত চাপ নিতে রাজি নন অনেকেই। ঠিক এই বাস্তবতাকে সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ব্যায়াম ও সুস্থতা ধারা ‘৭৫ সফট’। কঠিন নিয়মের ‘৭৫ হার্ড’-এর বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতিকে দেখছেন অনেকে, যেখানে শৃঙ্খলা আছে, কিন্তু নিজের প্রতি নমনীয় থাকার জায়গাও রয়েছে।
কঠোরতার বদলে নরম শুরুর আকর্ষণ
নিউইয়র্কে বসবাসকারী ছাব্বিশ বছর বয়সী মার্কেটিং ও মিডিয়া পেশাজীবী মর্গান ম্যানিং ২০২৬ শুরু করেছেন ‘৭৫ সফট’ দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোনে না গিয়ে তিনি নিজেকে সময় দেন। প্রস্তুত হওয়া, জার্নাল লেখা, প্রার্থনা আর বই পড়া দিয়েই তার দিন শুরু হয়। তার ভাষায়, এতে দিনের শুরুটাই মানসিকভাবে স্থির থাকে। অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম তার জীবনের সঙ্গে মানানসই নয় বলেই তিনি বেছে নিয়েছেন তুলনামূলক নমনীয় এই পথ।
টিকটকে তার এই উদ্যোগের ভিডিও কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষের নজর কেড়েছে। দেখা গেছে, একা তিনি নন, আরও অনেকেই একই ধরনের নরম শুরুর পথে হাঁটছেন। ‘৭৫ সফট’-এ ভালোভাবে খাওয়া, সামাজিক উপলক্ষে সীমিত পানীয় গ্রহণ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান আর নিয়মিত পড়ার অভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সবকিছুই নিজের সামর্থ্যের মধ্যে।
কেন সবাই কঠিন শুরু চায় না
ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্থূলতা চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফাতিমা কোডি স্ট্যানফোর্ড বলছেন, ২০২৬ সালে অনেক মানুষ নতুন করে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেয়ে বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বছরের পর বছর মানসিক চাপ, কাজের চাপ আর সবকিছু নিখুঁত করার সংস্কৃতি মানুষকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তার মতে, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে তীব্রতার চেয়ে ধারাবাহিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্যানফোর্ডের ব্যাখ্যায়, দিনে দুইবার দীর্ঘ সময় ব্যায়াম অনেকের জন্য চোট, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শেষ পর্যন্ত অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তব জীবনের সঙ্গে মানানসই নয় এমন পরিকল্পনা বেশিদিন টেকে না। তাই ‘৭৫ সফট’-এর মতো পদ্ধতি মানুষকে আকৃষ্ট করছে, কারণ এতে নিয়ম আছে, আবার বাস্তবতার জায়গা ও আছে।]
অভ্যাস গড়ার বাস্তব পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চ্যালেঞ্জকে শেষ লক্ষ্য না ভেবে একটি সূচনা হিসেবে দেখা উচিত। সহজ নিয়ম দিয়ে শুরু করে কোন অভ্যাসটি সবচেয়ে সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়, সেটির ওপর জোর দেওয়াই ভালো। ব্যায়াম মানেই যে কষ্টকর অনুশীলন হতে হবে, এমন নয়। অল্প হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে শ্বাস নেওয়াও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।
মর্গান ম্যানিং নিজেও তার ‘৭৫ সফট’-এ কিছু ব্যক্তিগত পরিবর্তন এনেছেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পদক্ষেপ নেওয়া, নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সময় কাটানো এবং শরীরের উপযোগী ব্যায়াম বেছে নেওয়াই তার লক্ষ্য। তার মতে, প্রতিদিন খুব কঠিনভাবে চলা তার জন্য সম্ভব নয়, কিন্তু নিয়মিত অল্প করাও এক ধরনের শৃঙ্খলাই।

ছোট সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব
ফাতিমা স্ট্যানফোর্ড মনে করিয়ে দেন, আজকের ছোট সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে হৃদ স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য, পেশিশক্তি আর সামগ্রিক সুস্থতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ধারাবাহিকভাবে নেওয়া ছোট পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত বড় পরিবর্তন আনে।
এই কারণেই ২০২৬ সালের শুরুতে অনেকেই বলছেন, এবার আর নিজেকে নিঃশেষ করে নয়, নিজের যত্ন নিয়ে এগোনোর সময়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















