উন্নয়নশীল অর্থনীতির ভারী শিল্প ও কয়লা নির্ভরতা
উন্নত দেশগুলো যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে দ্রুত এগোচ্ছে, তখন এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ এখনও ইস্পাত, সিমেন্ট ও রাসায়নিক উৎপাদনের মতো পুরোনো শিল্পে ভরসা রাখছে। এসব কারখানায় প্রচুর কয়লা ও গ্যাস লাগে এবং এগুলোর আয়ু দীর্ঘ হওয়ায় দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রয়টার্সের পরিসংখ্যানে দেখা যায় বৈশ্বিক ইস্পাত ও রাসায়নিক উৎপাদনের বড় অংশ এবং সিমেন্টের অধিকাংশ উত্তরের বাইরে। এই শিল্প কাঠামো কর্মসংস্থান ও সাপ্লাই চেইন তৈরি করে, তাই সরকারগুলো ব্যয়বহুল পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে যেতে ইতস্তত করে।

দুই গতি রূপান্তরের ঝুঁকি
উন্নত দেশগুলো ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ করছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট‑শূন্য নির্গমন অর্জনের লক্ষ্যে ঘরোয়া কয়লা বিদ্যুৎ বন্ধ করছে। তবে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এখনও নতুন কয়লা কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, কারণ এগুলো সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করে, প্রযুক্তি যেমন কার্বন ক্যাপচার ও হাইড্রোজেন‑ভিত্তিক ইস্পাত উৎপাদন ভবিষ্যতে নির্গমন কমাতে পারে, কিন্তু বর্তমানে এগুলো ব্যয়বহুল ও সীমিত। নীতি সমন্বয় না হলে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে ‘দুই গতির’ রূপান্তর তৈরি হতে পারে—ধনী দেশগুলো দ্রুত কার্বন কমাবে, আর দরিদ্র দেশগুলো উচ্চ কার্বন বৃদ্ধিতে আটকে থাকবে। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি দ্রুত বদলালে চাকরি ও স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে; আবার ধীরগতিতে এগোলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা Paris চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তাই উন্নয়নশীলদের উন্নয়ন চাহিদা মেনে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রসার এবং অর্থায়ন নিশ্চিতে নীতিনির্ধারকদের নতুন পরিকল্পনা দরকার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















