মিনেসোটায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযান নিয়ে কৌশলগত অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষা, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সংযত নির্দেশনা—এই দ্বৈত বার্তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিযানের ভবিষ্যৎ।
অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় বদলের ইঙ্গিত
আইসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার জারি করা অভ্যন্তরীণ স্মারকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, অকারণে উসকানিদাতা বা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা বিতর্কে জড়ানো যাবে না। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, কেবল যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে, তাদেরই লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে হবে। এর ফলে রাস্তায় হঠাৎ মানুষ থামিয়ে কাগজপত্র চাইবার আগের কৌশল থেকে সরে আসার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ট্রাম্পের কঠোর ভাষা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন
এই সংযত নির্দেশনার বিপরীতে বুধবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রেকে সতর্ক করে বলেন, শহর কর্তৃপক্ষ ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকরে সহযোগিতা না করলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আগের দিন তুলনামূলক শান্ত সুরে কথা বললেও, তার এই মন্তব্য প্রশাসনের ভেতরের দ্বন্দ্বকে আরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
আইনের শাসন প্রশ্নে আদালতের কড়া মন্তব্য
মিনেসোটার ফেডারেল আদালতের বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজ মন্তব্য করেছেন, চলতি মাসে আইস অন্তত ছিয়ানব্বইটি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। এক ভুলভাবে আটক ইকুয়েডরের নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার পর আদালত অবমাননার শুনানি স্থগিত করা হলেও বিচারকের ভাষায়, আইন মানার প্রশ্নে এই তালিকা যে কাউকেই উদ্বিগ্ন করবে। তিনি বলেন, এত স্বল্প সময়ে এত বেশি আদালতের আদেশ উপেক্ষা করা নজিরবিহীন।
রাস্তায় উত্তেজনা ও প্রাণঘাতী ঘটনা
টুইন সিটিজ এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ চলছেই। জানুয়ারির শুরুতে তিন সন্তানের জননী রেনি গুড গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়ায়। এরপর নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের নার্স অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। প্রশাসন শুরুতে নিহতদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুললেও, পরে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিলেন না।
নতুন নেতৃত্ব ও অভিযানের ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে ট্রাম্প সীমান্ত বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত টম হোমানকে মিনিয়াপোলিস অভিযানের নেতৃত্বে পাঠিয়েছেন। স্থানীয় গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মেয়রের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সংবাদমাধ্যমে কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন নজর। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পরিবর্তন দেখাচ্ছে যে প্রশাসন হয়তো সংঘাত কমিয়ে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের পথে হাঁটতে চাইছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















