শীতের তীব্র ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন শহর, অন্ধকারে জাদুঘর আর গরম খাবারের লাইনে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা—ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এমন দৃশ্য এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। এই সংকটের মধ্যেই জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে কিয়েভ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
শীতকালজুড়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় আঘাত
গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত থাকায় শীতের কষ্ট তীব্র হয়েছে। কিয়েভে অনেক পরিবার রাত কাটাচ্ছে অন্ধকারে, কোথাও কোথাও বিনা মূল্যে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও কিয়েভের অবস্থান
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের প্রস্তাবে কিয়েভ ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। তাঁর মতে, এক রাত জুড়ে জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি বড় আঘাত না আসা আশাব্যঞ্জক হলেও এটি এখনো পূর্ণ নিশ্চয়তা নয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি সম্পদে হামলা বন্ধ রাখে, তবে কিয়েভও পাল্টা জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত করা থেকে বিরত থাকবে।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন, যাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের ভাষায়, আলোচনার স্বার্থে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হামলা না চালানোর অনুরোধে সম্মতি দেওয়া হয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচনা, হামলা ও বাস্তবতা
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি স্থাপনায় বড় আঘাত কম থাকলেও আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা পুরোপুরি থামেনি। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্যে জানা যায়, এক রাতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আবুধাবির বৈঠক ও শান্তির সম্ভাবনা
এই সপ্তাহে আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধ সমাপ্তি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কির মূল্যায়নে, আগের তুলনায় উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি আলোচনার গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, বাস্তব অগ্রগতি অনেকটাই পুতিনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে গঠনমূলক বললেও রাশিয়া একে কঠিন ও সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে।
সামনে কী
পরবর্তী বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ, শীতের বাস্তবতা আর জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে ইউক্রেনের জন্য জ্বালানি যুদ্ধবিরতি শান্তির পথে প্রথম দৃশ্যমান ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
মেটা বর্ণনা: শীতের বিদ্যুৎ সংকটে ইউক্রেন। জ্বালানি স্থাপনায় হামলা থামাতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কিয়েভের সমর্থন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















