বিশ্ব যেন উল্টো দিকে ঘুরছে। অন্যায়, বৈষম্য আর ক্ষমতার দাপটে ছুটে চলা মানুষের ক্লান্ত দৌড়—এ বছর অস্কারের মনোনীত ছবিগুলোতে এমনই এক অস্থির সময়ের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। সমাজে যখন শক্তিশালীদের রোষ এড়াতে অনেকেই চুপ থাকছেন, তখন এই ছবিগুলো গল্পের রোমাঞ্চের ভেতর রাজনীতিকে গুঁজে দিয়েছে সাহসের সঙ্গে। দর্শকের চোখে নায়ক মানেই এবার ছুটে চলা মানুষ, বিপদ থেকে পালানো কিংবা মুক্তির খোঁজে এগিয়ে যাওয়া এক অবিরাম যাত্রা।
মনোনয়নে দীর্ঘ ছবির আধিপত্য
এ বছরের অস্কারে মনোনীত অনেক ছবি দৈর্ঘ্য আর গল্পের প্রাচুর্যে চোখে পড়ার মতো। সিনার্স পেয়েছে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন। ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার আর মার্টি সুপ্রিমও পিছিয়ে নেই। দুই ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যের এই ছবিগুলো যেন ইচ্ছে করেই দর্শককে আরও বেশি কিছু দিতে চায়। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার সংকটে নির্মাতারা বুঝি গল্পে, আবেগে আর ঝুঁকিতে কোনো ছাড় রাখছেন না। তবু বিস্ময়ের বিষয়, কোথাও গতি থেমে যায় না।

রোমাঞ্চে রাজনীতি আর ইতিহাস
সিনার্স এক অদ্ভুত ফ্যান্টাসি। ত্রিশের দশকের মিসিসিপিতে যমজ গ্যাংস্টারের গল্প, যেখানে ব্লুজ সংগীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভয় আর সহিংসতা। ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদারে নায়ককে তাড়া করা হয় শহর থেকে মরুভূমি পর্যন্ত, যেন পালানোর শেষ নেই। মার্টি সুপ্রিম আবার পঞ্চাশের দশকের টেবিল টেনিস জুয়াড়ির গল্প, যেখানে প্রেম, অপরাধ আর সংঘর্ষ একসঙ্গে ভিড় করেছে। এই ছবিগুলো এক মুহূর্তে খেলাধুলার ছবি, পরমুহূর্তে বড় হয়ে ওঠার গল্প কিংবা রোমাঞ্চকর ধাওয়া। যেন আজকের জীবন এতটাই অস্থির যে, তাকে কোনো সরল কাঠামোয় বাঁধা যায় না।
জাতি, রাজনীতি আর প্রতিবাদ
এই ছবিগুলোতে জাতি আর ক্ষমতার প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সিনার্সে বর্ণবৈষম্য আর শোষণের ছায়া ভয়াল চরিত্রগুলোর মতোই ভয় ধরায়। ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদারে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী শক্তি সরাসরি খলনায়ক। মার্টি সুপ্রিমের ইহুদি নায়ককে ঘিরে থাকা দুনিয়া বন্ধুসুলভ নয়। কোথাও কোথাও অতীতের বিভীষিকা আর বর্তমানের লড়াই এক সুতোয় বাঁধা, যা দর্শককে অস্বস্তিতে ফেললেও চোখ ফেরাতে দেয় না।
![]()
নীরবতার ব্যতিক্রম হ্যামনেট
এই কোলাহলের ভিড়ে একেবারে আলাদা হয়ে দাঁড়ায় হ্যামনেট। শেক্সপিয়রের পারিবারিক জীবন, সন্তানের জন্ম আর সন্তানের মৃত্যু—এই ছবির কেন্দ্রবিন্দু। এখানে নায়কোচিত দৌড় নেই, আছে কাদা মাখা গ্রামজীবন আর ঘরোয়া বেদনা। স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীর যন্ত্রণাময় আর্তনাদ ছবিটিকে অনন্য করে তোলে। অস্কারের এই প্রতিযোগিতায় যেখানে বাকিরা যেন সাইরেনের শব্দ, সেখানে হ্যামনেট এক গভীর নীরবতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















