ব্রিটেনের স্কুল মাঠে এক সময় জনপ্রিয় গায়িকাদের অনুকরণে চিৎকার শোনা যেত। এখন সেখানে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। হালকা স্লাভিক টানে সাত বছরের শিশুর মুখে ভেসে আসছে এক অদ্ভুত পঙ্ক্তি—সিগমা বয়, সিগমা বয়। এই গানের উৎস রাশিয়ার দুই কিশোর শিল্পীর একটি ইলেকট্রোপপ গান, যা অল্প সময়েই বিস্ময়কর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনলাইনে প্রকাশের পর থেকেই গানটি কয়েক শ কোটি বার শোনা হয়েছে, আর ইউরোপজুড়ে গবেষকদের কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গানের জনপ্রিয়তার ধাঁধা
প্রাপ্তবয়স্ক শ্রোতাদের কাছে এই গানের আবেদন সহজে ধরা দেয় না। সুর একঘেয়ে, কথার অর্থ অনুবাদেও অস্পষ্ট। তবু শিশুদের মধ্যে এটি যেন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে নিছক মজার ছড়া ভাবলেও ইউরোপের কয়েকজন গবেষক একে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলেও বর্ণনা করছেন।
অভিভাবকদের ভয় ও প্রশ্ন
গানের কথায় ব্যবহৃত ‘সিগমা’ শব্দটি অনলাইনের এক বিশেষ পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। সন্তানদের মুখে এমন শব্দ শুনে অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন, এই গান তাদের সন্তানদের চারপাশের প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
সামাজিক মাধ্যমের রহস্যময় বিস্তার
এই গান ছড়িয়েছে শিশুদের সামাজিক মাধ্যমের জটিল জগৎ দিয়ে। পাতাল রেলে গান বাজানো প্রভাবশালীর ভিডিও কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হাঙরের নাচ—সবই এই সুরে মিলেমিশে গেছে। তবে কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, এর পেছনে আছে আরও গভীর হিসাব। ইউক্রেন সরকারের অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় প্রচারব্যবস্থা ব্যবহার করে গানটিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণদের মধ্যে আধিপত্য, অতিরিক্ত পুরুষত্ব আর দুর্বলদের প্রতি অবজ্ঞার ধারণা গেঁথে যায়।

প্রচারণার কৌশল বদলের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় পরিবর্তন এসেছে। ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যার বদলে এখন বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে পুরুষত্ব আর দেশপ্রেমের আবেগে। এই গান সত্যিই পরিকল্পিত প্রচারণা হোক বা না হোক, এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে—শিশুদের অনলাইন জগৎ প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে এখনো অনেকটাই অচেনা। এটি আর বড়দের খেলার মাঠ নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















