ফরাসি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাপজেমিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে করা একটি চুক্তি ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও জনচাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ক্যাপজেমিনি গভর্নমেন্ট সল্যুশনস নামে পরিচিত ওই ইউনিটের বিক্রয় প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করা হবে।
আইসিই চুক্তি ঘিরে চাপ ও প্রশ্ন
গত মাসে মিনেসোটায় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর আইসিই এজেন্টদের কর্মকৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা, যার মধ্যে অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুরও রয়েছেন, ক্যাপজেমিনির কাছে আইসিইর সঙ্গে করা চুক্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাদের উদ্বেগ ছিল, এই ধরনের সরকারি চুক্তি কোম্পানির নৈতিক অবস্থান ও করপোরেট নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন বিক্রির পথে ক্যাপজেমিনি
ক্যাপজেমিনি তাদের বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রেণিবদ্ধ সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে যে কঠোর আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাতে গ্রুপের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজস্বে প্রভাব তুলনামূলক কম
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপজেমিনি গভর্নমেন্ট সল্যুশনস ২০২৫ সালের আনুমানিক মোট আয়ের মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ অবদান রাখে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাপজেমিনির মোট আয়ের ক্ষেত্রেও এই ইউনিটের অংশ দুই শতাংশের কম। তাই বিক্রির সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রধান নির্বাহীর ব্যাখ্যা
ক্যাপজেমিনির প্রধান নির্বাহী আইমান এজ্জাত সম্প্রতি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন আইসিই যে চুক্তি ক্যাপজেমিনি গভর্নমেন্ট সল্যুশনসকে দেয়, তার প্রকৃতি সম্পর্কে তারা পরে অবগত হন। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধির কারণে ক্যাপজেমিনির কাছে কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য, চুক্তি বা ওই ইউনিটের কারিগরি কার্যক্রমে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল না। একই সঙ্গে তিনি জানান, চুক্তির বিষয়বস্তু ও পরিসর এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চুক্তি প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















